মালয়েশিয়ায় নির্মাণস্থলে অভিযান, ১০৪ বাংলাদেশিসহ ১৪৯ আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬ বার
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি আটক অভিযান

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে এক সাঁড়াশি অভিযানে ১০৪ জন বাংলাদেশিসহ মোট ১৪৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। অভিযানটি দেশটির অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে পরিচালিত হয়েছে এবং এতে মূলত অবৈধভাবে কাজ করা শ্রমিকদের শনাক্ত ও আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জোহর রাজ্য অভিবাসন বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে জোহরের সেরি আলম ও পাসির গুদাং এলাকার একটি নির্মাণ সাইটে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি এবং জনসাধারণের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুপুর ২টার দিকে অভিযান শুরু হয়। অভিযান পরিচালনার সময় প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, কাজের ধরণ এবং উপস্থিত শ্রমিকদের নথিপত্র যাচাই করা হয়। অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তা জানান, আটকদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক ১০৪ জন, ইন্দোনেশিয়ার ২১ জন, পাকিস্তানের ১৩ জন, মিয়ানমারের ৬ জন, নেপালের ৪ জন এবং ভারতের একজন রয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আটক প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রথমত, বৈধ ভ্রমণ নথিপত্র ছাড়া দেশে অবস্থান করা। দ্বিতীয়ত, সামাজিক ভিজিট পাসের অপব্যবহার। এবং তৃতীয়ত, ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া অবৈধভাবে কাজ করা। এছাড়াও, বৈধ নথিপত্র ছাড়া শ্রমিকদের কাজ দেয়ার অভিযোগে নির্মাণ সাইটের একজন স্থানীয় মানবসম্পদ কর্মকর্তাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

জোহর রাজ্য অভিবাসন বিভাগের পরিচালক জানান, আটকদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর অধীনে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে চারজন সাক্ষীকে তদন্তে সহায়তার জন্য ‘বোরং ২৯’ (সমন) জারি করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আটক হওয়া সব বিদেশি নাগরিককে সেতিয়া ট্রপিকা অভিবাসন ডিপোতে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের নথিপত্র যাচাই, পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং বিস্তারিত তদন্তের পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযান অবৈধ অভিবাসন রোধে নিয়মিতভাবে চালানো হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে বৈধ নথিপত্র ছাড়া শ্রমিক নিয়োগ না হয়।

মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। নির্মাণ, উৎপাদন ও পরিষেবা খাতে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেকেই বৈধ অনুমোদন ছাড়াই কাজ করে। ফলে নিয়মিতভাবে অভিযানের মাধ্যমে দেশটির অভিবাসন বিভাগ তাদের শনাক্ত ও বৈধভাবে নথিপত্র যাচাই করে। জোহর রাজ্যের অভিবাসন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই অভিযানকে আইনি কাঠামোর অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে যাতে বৈধ এবং অবৈধ শ্রমিকদের মধ্যে পার্থক্য করা যায় এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযানের সময় স্থানীয় নির্মাণ সাইটের কর্মকর্তাদেরও সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু শ্রমিক বৈধ নথিপত্র ছাড়া কাজ করছিলেন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অভিবাসন বিভাগ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

অভিযান শেষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া স্থানীয় নির্মাণ সাইটগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদেরও সতর্ক করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের আইন লঙ্ঘন আর না ঘটে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি শুধু শ্রম বাজারকেই প্রভাবিত করছে না, বরং দেশটির আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক ব্যবস্থাপনার উপরও চাপ সৃষ্টি করছে। তাই নিয়মিত অভিযান ও কড়াকড়ি নীতিমালা প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যার মোকাবিলা করা জরুরি।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। নির্মাণ, কারখানা ও বিভিন্ন পরিষেবা খাতে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেকেই বৈধ নথিপত্র ছাড়া কাজ করছেন, যা নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যবস্তু। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে যাতে শ্রমিকদের বৈধতা নিশ্চিত হয় এবং স্থানীয় নিয়মকানুনের প্রতি সম্মান দেখানো হয়।সংক্ষেপে, জোহর রাজ্যে এই সাঁড়াশি অভিযান শুধু অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত করাই নয়, বরং বৈধ শ্রমিক ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংগঠিত করার একটি পদক্ষেপ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত