প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলা ঘোষাখালি এলাকায় এক দুঃখজনক ঘটনায় বৃদ্ধ দম্পতিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) গভীর রাতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহতরা হলেন একই এলাকার মোতাহার সিকদার ওরফে ঠান্ডু মিয়া (৮৫) ও তার স্ত্রী রেজিয়া বেগম (৬৫)। পুলিশ জানায়, নিহত দম্পতির ঘরে মালামাল এলোমেলো অবস্থায় ছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার সময় ঘরের কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে বোরো ধান আবাদে সাহায্যের জন্য দুই দিনমজুর ওই দম্পতির বাড়িতে আনা হয়েছিল। তারা দম্পতির বাড়ির পাশে একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। নিহতদের নাতি শাকিল সিকদার বলেন, মঙ্গলবার রাতে দিনমজুরদের অস্বাভাবিক আচরণ তার সন্দেহ সৃষ্টি করে। পরদিন সকালে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে তিনি ভেতরে প্রবেশ করলে তার দাদা-মাসিকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। সেই সময় ঘরের আলমারি ও আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় দম্পতিকে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, রাতের ঘটনায় দম্পতিকে পায়ের ব্যথার ওষুধের কথা বলে চেতনা নাশক ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল।
স্থানীয়রা এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সখিপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বোরো আবাদে কাজ করতে আসা দিনমজুররাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।”
নিহত দম্পতির পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের জীবনের শেষ দিনগুলো শান্তিতে কাটানো উচিত ছিল। বৃদ্ধ দম্পতির নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডে তারা গভীর শোকাহত। স্থানীয়দেরও মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, কারণ এমন ধরণের হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার জন্য এলাকায় জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি, দিনমজুরদের ভ্রমণ এবং তাদের পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ড নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ আশা করছে, তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এই ধরনের দুঃখজনক ঘটনা গ্রামীণ অঞ্চলে সমাজের নৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষদের ওপর সহিংসতা এবং লুটপাটের ঘটনা স্থানীয় সমাজের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি রোধ করতে হবে।
মোটকথা, টাঙ্গাইলে স্বামী-স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় পুলিশ তৎপর হয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং দোষীদের শনাক্ত করা হবে। এই ধরনের ঘটনাগুলো স্থানীয় সমাজের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপুর্ণ।