কারোর বিরুদ্ধে নয়, আমরা সিস্টেমের বিরুদ্ধে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫২ বার
কারোর বিরুদ্ধে নয়, আমরা সিস্টেমের বিরুদ্ধে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

প্রকাশ: ২৮  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর রাজনীতিতে উত্তাপ যখন ক্রমেই বাড়ছে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ক্ষমতার কাঠামোর বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের মনোনীত ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, তাদের লড়াই কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও সহিংস রাজনৈতিক সিস্টেমের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ব্যস্ততম কমলাপুর রেলস্টেশনে গণসংযোগ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

ভোর থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপস্থিতি চোখে পড়ে। কর্মব্যস্ত মানুষ, যাত্রী, হকার ও পথচারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। ভোটারদের অভিযোগ, প্রত্যাশা ও দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এই প্রার্থী। গণসংযোগের একপর্যায়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসনের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং ক্ষমতার অপব্যবহার এক ধরনের স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতাই তাদের লড়াইয়ের মূল প্রেরণা।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তার নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “ঢাকা-৮ আসনে প্রতি পরতে পরতে চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসী কার্যক্রমের চিহ্ন। আমরা কারোর বিরুদ্ধে না, আমরা সিস্টেমের বিরুদ্ধে। এই সিস্টেম যতদিন থাকবে, ততদিন সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকবে না।” তার ভাষায়, ব্যক্তিবিশেষকে দোষারোপ করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; বরং গোটা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার জরুরি।

তিনি অভিযোগ করেন, পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত টিকিয়ে রাখার জন্য একটি মহল নতুন মুখোশ পরে আবারও ক্ষমতার পাহারাদার হতে চাইছে। “কেউ কেউ সিস্টেম পরিবর্তনের কথা না বলে আগের সিস্টেমের নব্য পাহারাদার সাজতে চায়,” বলেন তিনি। তার মতে, নির্বাচনের সময় এসব চেহারা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন ভিন্নমত বা নতুন রাজনৈতিক ধারাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়।

প্রচারণায় বাধার ঘটনায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তিনি বা তার কর্মীরা কাউকে উস্কানি দেননি। “আমি কোনো বিএনপি নেতার পায়ে পারা দেইনি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা এসে আমাদের বাধা দিয়েছে,” বলেন তিনি। তার এই বক্তব্যে নির্বাচনী মাঠে বিরোধী পক্ষের সঙ্গে সংঘাতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ রাজনীতির বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, তার রাজনৈতিক দর্শন সিমপ্যাথি বা করুণা নির্ভর নয়। “আমরা সিমপ্যাথির রাজনীতি করি না। সিমপ্যাথির রাজনীতি করলে রাস্তায় গিয়ে শুয়ে থাকতাম,” মন্তব্য করে তিনি বোঝাতে চান, তাদের রাজনীতি দাবি আদায়ের জন্য নাটকীয়তা নয়, বরং কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য বাস্তব সংগ্রাম। তার মতে, জনগণের ভোট ও সচেতন সমর্থনই হবে পরিবর্তনের মূল শক্তি।

ঢাকা-৮ আসনের রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই এলাকায় বহু বছর ধরে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্যে ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচিত হলে প্রথম অগ্রাধিকার হবে এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা।

গণসংযোগকালে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথোপকথনে উঠে আসে কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গণপরিবহন সংকট ও নাগরিক নিরাপত্তার মতো বিষয়। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এসব সমস্যার শিকড় একই জায়গায়—ভুল সিস্টেম। “একই সিস্টেমে থেকে শুধু মুখ বদলালে সমস্যার সমাধান হবে না,” মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানোই তাদের মূল লক্ষ্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য মূলত বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিবাদী ভাষ্য। ব্যক্তি আক্রমণের পরিবর্তে সিস্টেম পরিবর্তনের কথা বলা বর্তমান রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে ব্যতিক্রমী। তবে এই বার্তা ভোটারদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ঢাকা-৮ আসন বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ায় এখানে প্রচলিত বড় দলগুলোর শক্ত অবস্থান রয়েছে।

তবুও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মনে করেন, সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের ভাষা বুঝতে পারছে। তিনি বলেন, “মানুষ আর আগের মতো নেই। তারা বুঝে গেছে সমস্যার মূল কোথায়।” তার আশা, ভোটাররা ব্যক্তিগত আনুগত্য বা ভয়ের রাজনীতি ছেড়ে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পক্ষে রায় দেবেন।

সব মিলিয়ে, কমলাপুর রেলস্টেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই গণসংযোগ শুধু একটি নির্বাচনী কর্মসূচি নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তার অবস্থানের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ব্যক্তি নয়, সিস্টেম পরিবর্তনের এই আহ্বান ঢাকা-৮ আসনের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত