মেধা আছে, পুঁজি নেই—তরুণদের পাশে তাসনিম জারা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮২ বার
মেধা আছে, পুঁজি নেই—তরুণদের পাশে তাসনিম জারা

প্রকাশ: ২৮  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা বলেছেন, দেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও আজ কর্মহীন জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের অভাব মেধার নয়, অভাব সুযোগের। বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “মেধা আছে, তবে পুঁজি নেই—এই বাস্তবতাই আমাদের তরুণ সমাজের সবচেয়ে বড় সংকট।” এই সংকট মোকাবিলায় নির্বাচিত হলে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকা-৯ আসনের অন্তর্ভুক্ত সবুজবাগ, খিলগাঁও, বাসাবো ও মুগদা এলাকার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন। সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেন ডা. তাসনিম জারা।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি জানান, ঢাকা-৯ আসনের তরুণদের জন্য তিনি একটি বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্টার্টআপ ঢাকা-৯’। এই তহবিলের মাধ্যমে বেকার ও উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের প্রাথমিক পুঁজির ব্যবস্থা করা হবে। তার মতে, শুধু চাকরির পেছনে ছুটে না থেকে যদি তরুণরা নিজ উদ্যোগে কিছু করতে পারে, তাহলে কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার খুলে যাবে।

ডা. তাসনিম জারা বলেন, “আমাদের অনেক তরুণ আছে যারা পড়াশোনা শেষ করে চাকরির অপেক্ষায় বছরের পর বছর বসে থাকে। অথচ তাদের মাথায় রয়েছে নতুন নতুন আইডিয়া, উদ্ভাবনী চিন্তা। সমস্যা একটাই—শুরুর পুঁজি নেই। আমি চাই, এই পুঁজি যেন আর বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।” তিনি আরও জানান, যারা ঘরে বসেই ছোট ব্যবসা বা অনলাইনভিত্তিক উদ্যোগ শুরু করতে চান, তাদের জন্যও ইশতেহারে বিশেষ আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

তাসনিম জারা তার বক্তব্যে তরুণদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে দেখে, তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না। তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। তার মতে, ছোট উদ্যোগ থেকেই বড় পরিবর্তন আসে, আর সেই পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে ঢাকা-৯ আসন থেকেই।

ঢাকা-৯ আসনটি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা। সবুজবাগ, খিলগাঁও, বাসাবো ও মুগদা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস। এখানে যেমন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের সংখ্যা বেশি, তেমনি শিক্ষিত তরুণ সমাজের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। ফলে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নগর সুবিধা—সবকিছু মিলিয়ে এই আসনের ভোটারদের প্রত্যাশাও বেশ বৈচিত্র্যময়।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে পারে। ডা. তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকলেও তার বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীরা। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রশিদ হাবিব। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন।

এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে ডা. তাসনিম জারা নিজেকে তুলে ধরছেন একজন বিকল্প ও সমাধানমুখী প্রার্থী হিসেবে। তার প্রচারণায় রাজনৈতিক স্লোগানের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধানের কথা। বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন—এই বিষয়গুলো তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসছে।

জনসংযোগের সময় অনেক তরুণ ভোটার তার সঙ্গে নিজেদের হতাশা ও স্বপ্নের কথা শেয়ার করেন। কেউ চাকরি না পেয়ে হতাশ, কেউ আবার ছোট ব্যবসা শুরু করতে চেয়েও পুঁজির অভাবে পিছিয়ে আছেন। এসব কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি শুধু কথা নয়, কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন।

তার বক্তব্যে মানবিকতার ছাপ স্পষ্ট। একজন চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন মানুষের পাশে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন, শুধু নীতি-কথা দিয়ে মানুষের জীবন বদলায় না। প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ ও সঠিক বাস্তবায়ন। সেই অভিজ্ঞতাকেই তিনি রাজনীতিতে কাজে লাগাতে চান বলে জানান।

ঢাকা-৯ আসনের ভোটাররা বলছেন, তরুণদের জন্য পুঁজি ও স্টার্টআপ সহায়তার মতো উদ্যোগ তাদের কাছে নতুন ও আশাব্যঞ্জক মনে হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের ফল নির্ভর করবে মাঠের রাজনীতি, ভোটার উপস্থিতি এবং প্রার্থীদের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর। তবুও ডা. তাসনিম জারার “মেধা আছে, পুঁজি নেই” বক্তব্যটি ইতোমধ্যে তরুণ সমাজের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, ঢাকা-৯ আসনের নির্বাচনী মাঠে ডা. তাসনিম জারা নিজেকে উপস্থাপন করছেন এমন একজন প্রার্থী হিসেবে, যিনি তরুণদের সমস্যা শুধু দেখেন না, সমাধানের পথও দেখাতে চান। তার প্রস্তাবিত ‘স্টার্টআপ ঢাকা-৯’ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু একটি আসনের নয়, বরং বৃহত্তর তরুণ সমাজের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে—এমন আশাই করছেন অনেকেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত