নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতেই দেশে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে: সালাহউদ্দিন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৫ বার
নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতেই দেশে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে: সালাহউদ্দিন

প্রকাশ: ২৯  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতে ইসলামী মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তার মূল উদ্দেশ্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা।

বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং বত্তাতলী স্টেশনে ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। শীতের দুপুরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠা পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, ধর্মের অপব্যবহার এবং গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো কোনোভাবেই স্বতঃস্ফূর্ত নয়। বরং নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় একটি মহল পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, “নির্বাচনের পরিবেশ যদি অশান্ত হয়, যদি জনগণের মধ্যে ভয় ও বিভ্রান্তি ছড়ানো যায়, তাহলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এটাই তাদের মূল লক্ষ্য।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তার দায় কোনোভাবেই বিরোধী দলের নয়। এই দায় সরকার, নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো যদি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে, তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে—এমন আশা করা কঠিন।

তবে প্রতিবাদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিবাদ অবশ্যই থাকবে। মানুষ তাদের দাবি-দাওয়া শান্তিপূর্ণভাবে জানাবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই প্রতিবাদ কখনোই বিশৃঙ্খল, সহিংস বা উসকানিমূলক হতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “প্রতিবাদের ভাষা হতে হবে শালীন ও শান্তিপূর্ণ। কোনো অবস্থাতেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না।”

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, কেউ যদি এসব ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে মাঠ গরম করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের উদ্দেশ্য জনগণের সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আজ গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের স্বাদ থেকে বঞ্চিত। এই সময় যারা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে, জনগণ তাদের কখনোই ক্ষমা করবে না।

ধর্মের অপব্যবহার নিয়ে কঠোর ভাষায় কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ধর্ম একটি পবিত্র বিষয়, যা মানুষের আত্মিক ও নৈতিক উন্নয়নের পথ দেখায়। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করা হলে তা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে। তাঁর ভাষায়, “আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হাশরের ময়দানে ফয়সালা করবেন কে কোথায় যাবে। এই ফয়সালা কোনো রাজনৈতিক দল করতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, শুধু দলের নামের শেষে ‘ইসলাম’ শব্দ যুক্ত থাকলেই কেউ ইসলামের প্রতিনিধি হয়ে যায় না। ধর্মের নামে প্রতারণা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হলে মানুষ একসময় তার জবাব দেবে। সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, রাজনীতিতে ধর্মকে হাতিয়ার বানালে তা গণতন্ত্রের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

রাজনীতির সংজ্ঞা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনীতি মানে হলো দেশের মানুষের জন্য কী করা হবে, সেই পরিকল্পনা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা। একটি দলের ইশতেহার, কর্মসূচি ও অতীত কার্যক্রম দেখে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে ভোট দেবে। এটাই গণতান্ত্রিক চর্চা। তিনি বলেন, “জনগণ যদি আমাদের পরিকল্পনা পছন্দ করে, তাহলে ভোট দেবে। আর পছন্দ না করলে দেবে না। কিন্তু ধর্ম বা ভয় দেখিয়ে ভোট আদায় করার চেষ্টা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।”

পথসভায় তিনি কক্সবাজার-১ আসনের উন্নয়ন প্রসঙ্গেও কথা বলেন। বলেন, এই এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় ভুগছে। কর্মসংস্থান, যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই এলাকার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়ন করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

উত্তর হারবাং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল উল্লাহ নুরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, বিএনপি নেতা শফিউল আলমসহ স্থানীয় নেতারা। বক্তারা সবাই নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার ওপর গুরুত্ব দেন এবং জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে বিএনপি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। তারা মনে করেন, দেশের মানুষ এখন সহিংসতা নয়, বরং স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র চায়। পথসভা শেষে নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বিভিন্ন দলের বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য তীব্র হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তাঁর অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি নির্বাচনপূর্ব রাজনীতিতে উত্তেজনার দিকটি যেমন তুলে ধরেছে, তেমনি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, চকরিয়ার এই নির্বাচনী পথসভা থেকে দেওয়া বক্তব্যে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং একই সঙ্গে ধর্ম ও রাজনীতির সীমারেখা স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। আসন্ন নির্বাচনে এই বক্তব্য কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত