নতুন রাজনীতি না এলে পুরনো সহিংসতা ফিরবে: শিশির মনির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬১ বার
রাজনীতিতে নতুনত্ব না থাকলে পুরনো কালচার

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন উত্তেজনা ও সহিংসতার অভিযোগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন ও নতুনত্ব আনার আহ্বান জানালেন নামগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী, আইনজীবী শিশির মনির। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনীতিতে যদি প্রকৃত অর্থে নতুন চিন্তা, নতুন সংস্কৃতি ও সহনশীল আচরণ প্রতিষ্ঠিত না হয়, তাহলে পুরনো সেই সহিংস ও অসহিষ্ণু রাজনৈতিক কালচার আবারও ফিরে আসবে, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য ভয়ংকর বার্তা বহন করবে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ধল বাজারে নির্বাচনি প্রচারণা শেষে নিজের প্রচার গাড়িতে হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন শিশির মনির। তিনি বলেন, শুধু তার নির্বাচনি এলাকায় নয়, ৫ আগস্টের পর দেশজুড়েই রাজনীতিতে যে ঘটনাপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে, তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। এসব ঘটনার অবসান জরুরি, না হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রত্যাশিত পরিবর্তন সম্ভব হবে না।

শিশির মনির বলেন, “গতকাল আমার নির্বাচনি এলাকায় যা ঘটেছে, সেটাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একই ধরনের ঘটনা আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় দেখছি। এটা স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছে যে, আমাদের রাজনীতিতে এখনো অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার সংস্কৃতি পুরোপুরি দূর হয়নি।” তিনি মনে করেন, নির্বাচন মানেই যেন ভয়ভীতি, হামলা আর প্রতিপক্ষকে দমিয়ে রাখার প্রবণতা—এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে জনগণের আস্থা অর্জন করা যাবে না।

প্রচার গাড়িতে হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে নানা ধরনের অস্বীকার ও ডিনাই চলছে। কিন্তু এই অস্বীকারের রাজনীতি সমস্যার সমাধান করে না। বরং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। শিশির মনির বলেন, “আমি প্রশ্ন রাখতে চাই—আমার প্রচার গাড়িতে কারা হামলা করেছে, সেটা খুঁজে বের করতে অসুবিধা কোথায়? ডিনাই করছেন কেন? তদন্ত করুন, সত্য বেরিয়ে আসুক।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান নির্বাচনি প্রচারণা আগের মতো শুধু পোস্টার আর মাইকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখন নতুন ধারার, সৃজনশীল বা ‘ক্রিয়েটিভ’ প্রচারণা চলছে। ভিডিও প্রদর্শন করা হচ্ছে, নতুন চিন্তা ও বার্তা ভোটারদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। ভোটাররা এসব দেখছেন, বুঝছেন এবং আগ্রহী হচ্ছেন। কিন্তু এই নতুন চিন্তা ও ভিন্নধর্মী প্রচারণাই কারও কারও কাছে সহ্য হচ্ছে না। তার ভাষায়, “এটা শুধু গাড়ি ভাঙা নয়, এটা আসলে নতুন চিন্তাকে ধ্বংস করার চেষ্টা।”

শিশির মনির বলেন, যারা রাজনীতিতে পরিবর্তন চান না, তারাই মূলত এই ধরনের হামলা ও বাধার পথ বেছে নিচ্ছেন। তারা চায় পুরনো ভয়ভীতির রাজনীতি, যেখানে শক্তি দেখিয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু সময় বদলেছে, জনগণ বদলেছে। ভোটাররা এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা সহিংসতা নয়, ভদ্রতা ও যুক্তির রাজনীতি দেখতে চায়।

তিনি গণমাধ্যমের ভূমিকাও উল্লেখ করেন। বলেন, মিডিয়াকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে প্রকৃত ঘটনা আড়াল না হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদেরও দায়িত্ব রয়েছে, নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সহনশীল আচরণের শিক্ষা দেওয়ার। শিশির মনির বলেন, “আপনারাও স্টেটমেন্ট দেন—যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। এটা যদি সত্যিই নতুন রাজনীতি হয়, তাহলে এখানে অপরাধের কোনো জায়গা থাকতে পারে না।”

রাজনৈতিক সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু বক্তব্য বা বিবৃতি দিয়ে রাজনীতিতে পরিবর্তন আসবে না। প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বিত আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া। তার মতে, জাতীয় স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের উচিত এক টেবিলে বসে আলোচনা করা এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা বন্ধে যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়া।

এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন শিশির মনির। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের যে আশা করা হচ্ছে, তা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। নির্বাচন কমিশনকে শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে শক্ত অবস্থান নিতে হবে।

শিশির মনিরের মতে, রাজনীতিতে নতুনত্ব মানে শুধু নতুন মুখ নয়, বরং নতুন আচরণ, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু শত্রুতা নয়; মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু সহিংসতা নয়। তিনি বলেন, “আমরা যদি সত্যিই নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই, তাহলে পুরনো সেই ভয়ের রাজনীতি, হামলা-মামলার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। না হলে মানুষ আবারও রাজনীতির ওপর আস্থা হারাবে।”

স্থানীয়ভাবে তার প্রচার গাড়িতে হামলার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকেই বলছেন, এই ধরনের ঘটনা বন্ধ না হলে শান্তিপূর্ণ ভোটের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিশির মনিরের বক্তব্য কেবল একটি দলের প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। নির্বাচন এলেই সহিংসতা, প্রতিপক্ষের প্রচারে বাধা এবং ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবারের নির্বাচনে যদি সত্যিই পরিবর্তনের বার্তা দেওয়া হয়, তাহলে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

সব মিলিয়ে, শিশির মনিরের বক্তব্য রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে এনেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নতুনত্ব ছাড়া রাজনীতিতে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়। আর সেই নতুনত্ব না এলে পুরনো সহিংস ও অসহিষ্ণু রাজনৈতিক সংস্কৃতি আবারও মাথাচাড়া দেবে—যার খেসারত দিতে হবে পুরো জাতিকেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত