বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিনামূল্যে ইন্টারনেট: মাহদী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৭ বার
বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিনামূল্যে ইন্টারনেট: মাহদী

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের সকল নাগরিককে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। রাজধানীতে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।

ড. মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচন শেষে বিএনপি সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, যারা মেধাবী এবং দক্ষ তাদের জন্য সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে দেশের বিকাশের অন্যতম মূল স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন করে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। ফ্রিল্যান্সারদের দাবি মেনে বাংলাদেশে পেপাল সেবা চালু করতে ইতিমধ্যে বিএনপি কাজ শুরু করেছে। মাহদী আমিন আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচন যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তাহলে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৯৫ শতাংশ জনগণকে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আনা হবে। এছাড়া সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে ‘ন্যাশনাল ই-ওয়ালেট’ চালু করা হবে। এই নীতিমালা ও পরিকল্পনাগুলো বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ড. মাহদী আমিন আরও বলেন, বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেশের মেধাবী জনগণকে তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণে সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে এবং ডিজিটাল অর্থনীতি ও অনলাইন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে দেশের তরুণ ও উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন প্রজন্মের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি সরকার হলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে দেশের অগ্রগতির প্রধান বাহন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে।

বিএনপির কর্মকর্তারা মনে করছেন, দেশে প্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থান, ফ্রিল্যান্সিং এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের জন্য এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে করোনা পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল অর্থনীতি ও অনলাইন কর্মসংস্থানের গুরুত্ব বেড়েছে। বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা যুব সমাজকে শিক্ষায়, ব্যবসায়, ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্ভাবনে সমান সুযোগ প্রদান করবে।

একের পর এক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সঙ্গে জনগণকে সংযুক্ত করার জন্য বিএনপি সরকার কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নীতি নির্ধারণে মনোযোগী হবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ডিজিটাল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হবে।

এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বিনামূল্যে ইন্টারনেট ছাড়াও সরকার উচ্চ গতির ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল অর্থনৈতিক সেবা সম্প্রসারণে কাজ করবে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে ন্যাশনাল ই-ওয়ালেট চালু হবে। এতে ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

ড. মাহদী আমিনের মতে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন এবং বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেশের যুবসমাজকে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করবে। এছাড়া এটি দেশের অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত ও সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিএনপির এই ঘোষণা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে ডিজিটাল ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হবে। ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত