নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করলে জনগণ রুখে দেবে: নাহিদ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৯ বার
নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করলে জনগণ রুখে দেবে: নাহিদ

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে বলেছেন, কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি যদি নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তা জনগণ রুখে দেবে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে এই জনসভায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে আরও এক ধাপ এগোনোর সুযোগ এসেছে এবং এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “জামাতে ইসলামী নায়েবে আমির ড. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ঐক্যমত কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে ১১ দলীয় জোট গঠনের সকল উদ্যোগে তার কঠোর পরিশ্রম এবং দিকনির্দেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়েছে। সেই প্রচেষ্টার ফলেই আমরা এবারের নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করতে পারছি।”

তিনি আরও বলেন, জনগণকে আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, “দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে ড. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে জয়যুক্ত করে সংসদে পাঠাতে হবে। তিনি সংসদে গিয়ে শুধু চৌদ্দগ্রামের নয়, সমগ্র দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলবেন এবং সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেবেন। এটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ এবং গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা প্রদর্শন করবে।”

নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হাজারো শহীদের রক্তের মধ্য দিয়ে আমরা আজ ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্রের দিকে এগোতে পারছি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, অনেকে এটিকে সাধারণ নির্বাচন বলে ভাবতে পারেন, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। তিনি বলেন, “এ নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক ইভেন্ট নয়। এটি দেশের জনগণের সংগ্রাম, শহীদের আত্মত্যাগ এবং গণতন্ত্রের বিজয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। যারা গণ-অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করতে চায়, তারা দেশের বাস্তবতা বোঝেনি।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে পার্শ্ববর্তী কিছু দেশের তৎপরতা নজর এড়ায়নি। “গত ১৬ বছরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনেও বিদেশি প্রভাব বিস্তার এবং হস্তক্ষেপের চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের জনগণই হবে একমাত্র রক্ষা বলয়। তাদের একটি কূটনৈতিক প্রকাশ্যভাবে জানিয়েছে, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় ভোট চুরি ছাড়া যেতে পারবে না। এটি স্পষ্ট প্রমাণ যে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আমাদের জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের সরকারে কে ক্ষমতায় আসবে, তা নির্ধারণ করবে একমাত্র জনগণ। কোনো বাহ্যিক বা আধিপত্যবাদী শক্তি এ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। যদি এমন চেষ্টা করা হয়, জনগণ তাকে রুখে দেবে। আমরা জনগণকে সচেতন করতে, ভোটের গুরুত্ব বোঝাতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করছি।”

তিনি নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “যদি আমরা সরকার গঠন করি, প্রাথমিক অগ্রাধিকার হবে গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের বিচার কার্যকর করা। এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলা যেমন শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। আমাদের প্রতিশ্রুতি, এই বিচার হবে এই বাংলার মাটিতে এবং সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে।”

নাহিদ ইসলাম জনগণকে আরও বিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিজয় শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নয়, এটি দেশের জনগণের বিজয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা গণতন্ত্রের শক্তি প্রদর্শন করব। যারা ভোট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করবে, জনগণ তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।”

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে প্রত্যেক নাগরিকের সচেতনতা অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোটপ্রক্রিয়ায় অসৎ কার্যকলাপ বা রাজনৈতিক চাপ, জনগণকে প্রভাবিত করতে পারবে না। “প্রত্যেক ভোট গুরুত্বপূর্ণ, এবং জনগণই হবে সঠিক সিদ্ধান্তের রক্ষক।”

নাহিদ ইসলাম কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জনসভায় জনগণকে আশ্বাস দেন, নির্বাচনী পরিবেশ স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখার জন্য জোটবদ্ধভাবে কাজ করা হবে। পাশাপাশি তিনি ভোটারদের কাছে আহ্বান জানান, অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করুন।

তিনি জানান, ভোটারের সচেতনতা, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বচ্ছ দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করলে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি বা অনিয়ম নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারবে না। “আমাদের লক্ষ্য, ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু রাখা এবং দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা।”

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, এবারের নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক ইভেন্ট নয়, এটি দেশের জনগণের সংগ্রাম, শহীদদের আত্মত্যাগ, এবং গণতন্ত্রের বিজয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। তার ভাষায়, “যে কোনো অনিয়ম, হস্তক্ষেপ বা চক্রান্ত হলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। নির্বাচনের বিজয় হবে জনগণের বিজয়।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত