প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় আবারও শীর্ষের দিকে উঠে এসেছে ঢাকা। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোর ছিল ২৩৭, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে।
সকাল ৯টার দিকে প্রকাশিত এই সূচকে দেখা যায়, ওই সময় বিশ্বে বায়ুদূষণের দিক থেকে ঢাকা ছিল তৃতীয় অবস্থানে। এর আগের দিন শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার একিউআই স্কোর ছিল ২০৪, তখন শহরটি দূষিত বায়ুর তালিকায় পঞ্চম স্থানে ছিল। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটর, যেখানে একিউআই স্কোর ছিল ২৫২। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মিশরের রাজধানী কায়রোর স্কোর ছিল ২৪১। এই তিন শহরেই বায়ুর মান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় শীতকালে বায়ুদূষণ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং বাতাসে সূক্ষ্ম ধুলিকণার আধিক্য। শীতকালে বাতাসের গতি কম থাকায় দূষিত কণাগুলো সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে না, ফলে শহরের বাতাস আরও বেশি দূষিত হয়ে ওঠে।
একিউআই বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স মূলত বাতাসে থাকা ক্ষতিকর কণার মাত্রা পরিমাপ করে। এই সূচক অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোরকে ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর মাঝারি মানের বাতাস নির্দেশ করে। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে বলা হয় ‘অস্বাস্থ্যকর’। আর ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর হলে সেটিকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বর্তমানে ঢাকার অবস্থান এই ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণিতেই পড়ছে। এই পর্যায়ে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্তদের বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান কিংবা ভারী শারীরিক কার্যক্রম সীমিত রাখতে বলা হয়ে থাকে। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহারের কথাও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন।
একিউআই স্কোর যদি ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে চলে যায়, তখন সেটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ধরা হয়, যা নগরবাসীর জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ঢাকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই দিকেই এগোচ্ছে কি না, তা নিয়ে পরিবেশবিদরা উদ্বিগ্ন।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের নির্গমন কমানো, শিল্পকারখানার ওপর কঠোর নজরদারি এবং সবুজায়ন বাড়ানো ছাড়া ঢাকার বায়ুমান উন্নত করা কঠিন হবে।
এদিকে নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়ুদূষণ নিয়ে আরও সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। ঢাকার বাতাসের মান উন্নত না হলে জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।