নির্বাচনে পক্ষপাতিতার পরিণতি ভয়াবহ হবে: ইসি সানাউল্লাহ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৬ বার

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ রোববার বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘যদি কারো বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়, তার অবস্থা খুবই খারাপ হবে।’ এই সতর্কবার্তা মূলত জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়।

সভায় বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন, ‘নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আপনাদের কাজ করতে হবে। স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করবেন, মিডিয়ার মাধ্যমে সেটি তুলে ধরবেন, কোনো লুকোছাপা নয়।’ তিনি যুক্ত করেন, নির্বাচন কমিশন সর্বদা নিরপেক্ষতা বজায় রাখে এবং তাতে কোনও প্রভাব পড়তে দিতে পারে না। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সব ধরনের প্রার্থী, ছোট দল বা বড় দল—কারও জন্য ভিন্ন আচরণ করা হবে না।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমার কাছে কোনো ছোট দল, বড় দল, হেভি ওয়েট প্রার্থী বা লাইট ওয়েট প্রার্থী নেই। সবাইকে সমানভাবে আচরণ করতে হবে। আইন প্রয়োগে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না।’ তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘নির্দেশনা সত্ত্বেও যদি কেউ পক্ষপাতিত্ব করে এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কঠোর হবে।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের দৃঢ়ভাবে কাজ করতে হবে। দৃঢ় থাকলে কেউ সুযোগ নিতে পারবে না। তবে শুধু বল প্রয়োগ নয়, মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হবে। আপনারা পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন এবং শতভাগ দায়িত্ব নিয়ে দায়িত্ব পালন করুন।’ সভায় জেলার প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এই সভার মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচনকে পুরোপুরি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীলভাবে সম্পন্ন করা। ইসি সানাউল্লাহর ভাষণে পরিষ্কারভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন কোনো প্রার্থী বা দলের পছন্দের জন্য প্রভাবিত হবে না। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে প্রতিটি এলাকায় মনিটরিং ও তদারকি নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের কড়া হুঁশিয়ারি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ করতে সহায়ক হবে। নির্বাচনী পরিবেশে পক্ষপাতিত্ব রোধ করা এবং প্রতিটি ভোটারের অধিকার সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনারের বার্তা স্পষ্ট—যে কেউ নিয়মের বাইরে গিয়ে পক্ষপাত দেখাবে, তার ফলাফল ভালো হবে না।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এই সতর্কবার্তা স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্বের মর্যাদা বোঝার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা বাড়াবে। নির্বাচনের সময় কঠোর ও নিরপেক্ষ তদারকি না থাকলে ভোটারদের আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনমতও প্রভাবিত হবে।

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ইসি সানাউল্লাহর এই বার্তা প্রমাণ করছে যে, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্ব কোনোভাবে সহ্য করবে না। সকল কর্মকর্তা, প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্টরা এ ধরনের সতর্ক বার্তার গুরুত্ব বুঝে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত