মা-বোনের মর্যাদা রক্ষায় কঠোর হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৪ বার

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচনকেন্দ্রিক উত্তাপের মধ্যে নারীর নিরাপত্তা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং নৈতিক শাসনের প্রশ্ন আবারও সামনে এনেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শেরপুরে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে নিতে চায়, তারা পশুর চেয়েও খারাপ। আমি স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, মা-বোনদের গায়ে হাত দিলে দেশে বিস্ফোরণ হবে।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শেরপুর জেলা শহরে আয়োজিত ওই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর ভাষায়, জাতির সামনে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে কোন পথে বাংলাদেশ এগোবে। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের বিষয় নয়, বরং নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে একটি মোড় ঘোরানোর দিন।

জামায়াত আমির বলেন, “জাতি কঠিন বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে। বারো তারিখ সেই বাঁক পরিবর্তনের দিন। যারা আল্লাহতাআলার গোলামি করে, তারা কালো মেঘ দেখলে ভয় পায় না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে সাহস ও দৃঢ়তার বার্তা দেন। তাঁর মতে, সমাজে অশান্তি, অনাচার ও অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হলে নৈতিক শক্তির প্রয়োজন, যা ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে আসে।

নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজে কিছু গোষ্ঠী রয়েছে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে মা-বোনদের অসম্মান করতে চায়। তিনি এমন আচরণকে মানবিকতার চরম অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, নারীর ওপর নিপীড়ন কেবল একটি সামাজিক অপরাধ নয়, বরং তা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্যও হুমকি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে জনগণ আর চুপ করে থাকবে না।

অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াত আমির তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, যুবকদের হাতে শুধু বেকার ভাতা তুলে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। তাঁর মতে, ভাতা দিয়ে সাময়িক স্বস্তি দেওয়া গেলেও স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তরুণদের জন্য হালাল ও টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার কথা তিনি জোর দিয়ে বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজি সাধারণ মানুষের জীবনে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, জামায়াত যদি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তাহলে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়। রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জানমাল, ইজ্জত ও অধিকার রক্ষা করা। তিনি দাবি করেন, জামায়াত ইসলামী রাজনীতিতে ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তাই দেশের মানুষ যদি শান্তি ও নিরাপত্তা চায়, তবে নীতিবান নেতৃত্বকে সমর্থন দেওয়া জরুরি।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে অতীতের বিভিন্ন সহিংসতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের উদাহরণ টেনে বলেন, সমাজে যখন অন্যায় বাড়ে, তখন তার প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ হয়। তিনি ইঙ্গিত দেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে এবং এর দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। তাঁর কথায়, জনগণ আর সহ্য করতে রাজি নয় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে উঠবে।

এই জনসভায় জামায়াতের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য দেন। তাঁরা দলের কর্মসূচি, নির্বাচনি লক্ষ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নৈতিক রাজনীতির জন্য জামায়াতের বিকল্প নেই। তাঁরা ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, দেশের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য নির্বাচনি মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নারীর নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি সামনে এনে তিনি আবেগ ও নৈতিকতার জায়গা থেকে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থনৈতিক ইস্যুতেও কথা বলেছেন।

সামগ্রিকভাবে শেরপুরের এই জনসভা জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি প্রচারণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। নারীর মর্যাদা রক্ষা, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে দলটি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আসন্ন নির্বাচনে এসব বক্তব্য কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্তের ওপর। তবে এটুকু নিশ্চিত, ডা. শফিকুর রহমানের “মা-বোনদের গায়ে হাত দিলে দেশে বিস্ফোরণ হবে” বক্তব্য ইতোমধ্যে রাজনৈতিক আলোচনায় তীব্র সাড়া ফেলেছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত