জনমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গঠিত ১১ দলীয় জোট: মামুনুল হক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৬ বার
জনমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গঠিত ১১ দলীয় জোট: মামুনুল হক

প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষের হারানো অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সাম্য, ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের মূল লক্ষ্য—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, এই জোট কোনো ক্ষমতার লোভে গঠিত হয়নি; বরং দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতেই এই রাজনৈতিক ঐক্যের জন্ম।

সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরের ঢাকা–খুলনা বাইপাস সড়কে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মামুনুল হক। সভাস্থলে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাষ্ট্র হবে নাগরিকবান্ধব, বিচার হবে নিরপেক্ষ এবং ক্ষমতা হবে জনগণের আমানত।”

মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে বলেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে কোনো নিরপরাধ মানুষ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনেক নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে, রাজনৈতিক মতের কারণে মামলা-হামলার শিকার হতে হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের চর্চা বন্ধ করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “আমরা অপরাধীর বিচার চাই, কিন্তু নির্দোষের শাস্তি নয়। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে হেনস্তা করার সংস্কৃতি এই দেশ থেকে চিরতরে বন্ধ করতে হবে।”

নির্বাচনী প্রতীক ‘রিকশা’ প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, এই প্রতীক কেবল একটি প্রতীক নয়; এটি দেশের শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি। “যখন বড় বড় গাড়ি থেমে যায়, তখনও রিকশা চলে। ধনী-গরিব, ছাত্র-শ্রমিক—সবাই কোনো না কোনো সময় রিকশার ওপর নির্ভরশীল। তাই রিকশা হলো জনমানুষের আস্থা ও ভরসার প্রতীক,” বলেন তিনি। তার ভাষায়, এই প্রতীকই প্রমাণ করে যে ১১ দলীয় জোট মূলত সাধারণ মানুষের রাজনীতি করতে চায়।

গোপালগঞ্জের সামাজিক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা এই অঞ্চলের বহু বছরের হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থানের ধারাকে অক্ষুণ্ন রাখতে চান। তিনি বলেন, “ধর্ম, বর্ণ কিংবা মতের পার্থক্য নয়—আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হবে মানবিক মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার।”

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ওইদিন শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনই নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ মূলত সিদ্ধান্ত নেবে, তারা পরিবর্তন চায় কি না। তিনি জনগণকে পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বাক্সে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং রিকশা মার্কার বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

মাওলানা মামুনুল হক নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, যেন সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হয়। তার মতে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে। একই সঙ্গে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে, যাতে কোনোভাবেই ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন না হয়।

ভোট জালিয়াতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, মৃত ব্যক্তি বা প্রবাসীদের নামে ভুয়া ভোট দেওয়ার কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি কেউ গণতন্ত্রকে ভূলুণ্ঠিত করার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণই তার উপযুক্ত জবাব দেবে।”

এই পথসভায় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি এবং ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য শরিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জনমুখী রাজনৈতিক বিকল্প সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। তাদের মতে, ১১ দলীয় জোট সেই বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

সভা শেষে এক প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। মাওলানা মামুনুল হক ১১ দলীয় জোটের গোপালগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী শুয়াইব ইব্রাহিমের হাতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নির্বাচনী প্রতীক ‘রিকশা’ তুলে দেন। এই দৃশ্য উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোপালগঞ্জের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১১ দলীয় জোটের এই ধরনের সক্রিয় প্রচারণা নির্বাচনী মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জনমানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধের মতো ইস্যুগুলো সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, মামুনুল হকের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে ১১ দলীয় জোট নিজেদেরকে একটি আদর্শভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটাররা এই বার্তাকে কতটা গ্রহণ করেন এবং ব্যালটের মাধ্যমে কীভাবে তাদের রায় প্রকাশ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত