বিএনপিকে ভোট দেবে না জনগণ, গণভোটে ‘হ্যাঁ’র আহ্বান জাগপার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪১ বার
বিএনপি দুর্নীতিতে তিনবার চ্যাম্পিয়ন

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অগণতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগ তুলে দলটির প্রতি জনগণের আস্থা নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি—জাগপা নির্বাচন পরিচালনা লিয়াজোঁ কমিটির আহ্বায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিএনপি অতীতে তিনবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং সেই ইতিহাসের কারণেই এবার দেশের জনগণ, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং নতুন প্রজন্মের ভোটাররা দলটিকে ভোট দেবে না। এমনকি বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সোমবার বিকেলে রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সৈয়দ সফিকুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, গাজীপুরে ছাত্রদলের ছুরিকাঘাতে এক নারী ব্যবসায়ী হত্যার প্রতিবাদ এবং সারাদেশে চলমান সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে। একই সঙ্গে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সৈয়দ সফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, বিএনপির শাসনামলে দুর্নীতি ছিল রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতির অংশ। দুর্নীতিতে আন্তর্জাতিকভাবে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া কোনো দল জনগণের আস্থা ফেরাতে পারে না। তিনি দাবি করেন, আজকের তরুণ ভোটাররা অতীতের সেই ইতিহাস ভুলে যায়নি। একইভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও দেশ পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দেখতে চান। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে না বলেই প্রবাসীদের মধ্যে রেমিট্যান্স বন্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও সাইবার হামলার ঘটনা বাড়ছে। সফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে দেশি-বিদেশি অশুভ শক্তি বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ওই হ্যাকিংয়ের ঘটনায় রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একটি ইমেইল ব্যবহারের তথ্য তারা জানতে পেরেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক ঘটনা। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকি।

একই বক্তব্যে তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে রাশেদ প্রধানের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করার চেষ্টা চলছে এবং ফোন কলে আড়িপাতা হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনকে হেনস্তা করার অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। এসব ঘটনার জন্য তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের আচরণকে দায়ী করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

সৈয়দ সফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের মানুষ মনে করে বিএনপির বর্তমান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য নতুন এক ফ্যাসিবাদের জন্ম দিতে পারে। তাঁর ভাষায়, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গণতন্ত্র নয়, বরং ভয় ও সহিংসতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, অবিলম্বে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে নির্বাচনকালীন পরিবেশ নষ্ট হবে এবং ভোটাররা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

তিনি জাগপার পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন করে শোষণ, বঞ্চনা, ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হয়েছে। তাঁর মতে, অগণিত লাশ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সেই জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের মৌলিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সেই চেতনা যেন আর কখনো হারিয়ে না যায়, সে জন্যই জাগপা সাংবিধানিক স্বীকৃতির মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

সফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের জনগণ চায় গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের স্বীকৃতি পাক। এতে ভবিষ্যতে আর কোনো ফ্যাসিবাদী, দুর্নীতিবাজ কিংবা চাঁদাবাজ শক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবে না। তাঁর মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হলে শুধু নির্বাচিত সরকারই নয়, স্থানীয় প্রতিনিধি ও প্রশাসনকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হবে। এটি রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

তিনি জানান, সেই লক্ষ্যেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জাগপা দেশব্যাপী প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, জুলাই বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি—জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, নির্বাচন পরিচালনা লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য সচিব এস এম জিয়াউল আনোয়ার, সদস্য নজরুল ইসলাম বাবলু, মো. সাব্বির আহমেদসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা সবাই বক্তব্যে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বিএনপির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর পুনরাবৃত্তি করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মাঠে বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য আরও তীব্র হবে। জাগপার এই বক্তব্য বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে। তবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, বিএনপির অতীত শাসনামল, বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে জাগপার এই কঠোর সমালোচনা দেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, জনগণ গণভোট ও নির্বাচনে কীভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করে এবং রাজনৈতিক শক্তিগুলো সেই রায়কে কতটা সম্মান জানায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত