জন্মের ১৭ ঘণ্টা আগে গর্ভধারণের খবর পেলেন তরুণী: চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিরল অভিজ্ঞতা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৬ বার
জন্মের ১৭ ঘণ্টা আগে গর্ভধারণের খবর পেলেন তরুণী: চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিরল অভিজ্ঞতা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ২০ বছর বয়সী শার্লট সামার্সের জীবনে হঠাৎ করেই ঘটে যায় এক অভূতপূর্ব ঘটনা—সন্তান প্রসবের মাত্র সাড়ে ১৭ ঘণ্টা আগে তিনি জানতে পারেন যে তিনি অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এমন গর্ভাবস্থাকে বলা হয় ক্রিপটিক প্রেগন্যান্সি বা গোপন গর্ভাবস্থা, যেখানে গর্ভধারণের প্রচলিত কোনো লক্ষণই শরীরে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না।

ঘটনাটি ঘটে গত জুন মাসে। শার্লট নিজেই জানিয়েছেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার আগপর্যন্ত তাঁর শরীরে কোনো ব্যতিক্রম লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। তাঁর ওজন কিছুটা বেড়েছিল এবং জিনসের মাপ দুই ধাপ বড় হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তিনি ভেবেছিলেন সেটা মানসিক চাপ, অতিরিক্ত খাওয়া বা সম্পর্কজনিত কারণে হয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে তিনি নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অনুসরণ করছিলেন এবং তার মাসিক চক্রও ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তাই গর্ভাবস্থার বিষয়টি তার চিন্তার সীমানাতেই আসেনি।

৬ জুন একটি হালকা গ্যাস্ট্রিক সমস্যা এবং গ্লুটেন সেনসিটিভিটির আশঙ্কা নিয়ে এক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন শার্লট। চিকিৎসক তাঁর শরীরের লক্ষণ দেখে গর্ভধারণের পরীক্ষার পরামর্শ দেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই পরীক্ষা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়—তিনি জানতে পারেন, তিনি প্রায় ৩৮ সপ্তাহের গর্ভবতী এবং সন্তান জন্মের সময় যে কোনো মুহূর্তে হতে পারে।

খবর জানার পরপরই শার্লটকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। চিকিৎসকেরা তাকে জানান, শিশুর আশপাশে অ্যামনিয়োটিক ফ্লুইড বা তরল নেই, এবং খুব দ্রুত প্রসবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। শার্লট জানান, সেই সন্ধ্যাতেই তিনি হাসপাতাল যাওয়ার প্রস্তুতি নেন এবং রাতেই তার পানি ভেঙে যায়। মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি একটি সুস্থ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

‘আমি মাত্র সাত মিনিটের পুশেই সন্তান জন্ম দিলাম। এর আগে কোনো মানসিক প্রস্তুতি ছিল না, এমনকি গর্ভাবস্থার কথাটাই জানতাম না। সবকিছু যেন স্বপ্নের মতো লাগছিল,’ —এভাবে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন শার্লট। তিনি আরও বলেন, “আমি জানার ১৭ ঘণ্টা ২১ মিনিটের মধ্যে মা হয়ে গেছি, এটা এখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।”

চিকিৎসকদের মতে, ‘ক্রিপটিক প্রেগন্যান্সি’ খুবই দুর্লভ হলেও অসম্ভব নয়। অনেক সময় শরীরের হরমোনাল ভারসাম্য এমনভাবে কাজ করে যে গর্ভধারণের ক্লাসিক উপসর্গ যেমন পিরিয়ড বন্ধ হওয়া, বমিভাব, পেটের আকার বৃদ্ধি কিংবা শিশুর নড়াচড়া—সবই আড়ালেই থেকে যায়। ফলে অনেক নারী বুঝতেই পারেন না যে তারা গর্ভবতী।

জার্মানির বার্লিনে এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ৪৭৫টি গর্ভাবস্থার মধ্যে একটি ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত গোপন থাকে। আর প্রতি ২,৫০০টি গর্ভাবস্থার মধ্যে একটি এমন থাকে, যা সন্তান জন্ম পর্যন্ত ধরা পড়ে না।

শার্লট সামার্সের এই ঘটনা শুধু তার নিজের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে না, এটি বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাবিদ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিস্ময়ের সঞ্চার করেছে। ঘটনাটি আরও একবার প্রমাণ করেছে, মানবদেহ কতটা জটিল, এবং কখনও কখনও আমাদের অজান্তেই কত বড় কোনো পরিবর্তন ঘটে যেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত