পেটের মেদ কমাতে ট্রেডমিলে হাঁটার কার্যকর কৌশল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৫ বার
পেটের মেদ কমাতে ট্রেডমিলে হাঁটার কার্যকর কৌশল

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ওজন কমানো মানেই কঠিন দৌড়ঝাঁপ, অতিরিক্ত ঘাম ঝরানো কিংবা শরীর ভেঙে দেওয়া ব্যায়াম—এমন ধারণা বহুদিন ধরেই প্রচলিত। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ বলছে, সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ীভাবে ওজন কমানোর জন্য সব সময় উচ্চমাত্রার কসরত প্রয়োজন হয় না। বরং সঠিক পদ্ধতিতে, নিয়ম মেনে মাঝারি তীব্রতার ব্যায়াম অনেক ক্ষেত্রেই বেশি কার্যকর হতে পারে। সেই তালিকায় ক্রমেই জায়গা করে নিচ্ছে ট্রেডমিলে ঢালু পথে হাঁটা, যা বিশেষ করে পেটের মেদ কমাতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেডমিলে নির্দিষ্ট ঢাল ও নিয়ন্ত্রিত গতিতে হাঁটার সময় শরীর এমন এক অবস্থায় কাজ করে, যেখানে শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে চর্বি ব্যবহারের হার বাড়ে। সাধারণত এই পদ্ধতিতে ট্রেডমিলের ঢাল ১০ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে রাখা হয় এবং গতি থাকে এমন, যাতে হাঁটতে কষ্ট না হলেও শ্বাসপ্রশ্বাস কিছুটা দ্রুত হয়। এতে শরীর অতিরিক্ত ধাক্কা না খেয়ে ধীরে ধীরে ক্যালরি পোড়াতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে মেদ ঝরাতে সহায়তা করে।

ঢালু পথে হাঁটার সময় শরীরের একাধিক বড় পেশি একসঙ্গে সক্রিয় হয়। বিশেষ করে পা, উরু, নিতম্ব ও কোমরের পেশিগুলো বেশি কাজ করে, যা পেটের আশপাশে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি কমানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। সমতলে হাঁটার তুলনায় এতে ক্যালরি খরচের পরিমাণ বেশি হলেও দৌড়ানোর মতো হাঁটু, গোড়ালি বা কোমরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। এ কারণে যাদের জোড়ায় হালকা সমস্যা রয়েছে বা যারা দৌড়াতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাদের জন্য এটি তুলনামূলক নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, মাঝারি তীব্রতায় দীর্ঘ সময় হাঁটার ফলে হৃদ্‌যন্ত্রের সহনশীলতা বাড়ে। এতে হৃদ্‌স্পন্দন ও রক্তচাপ সাধারণত নিয়ন্ত্রিত সীমার মধ্যেই থাকে, ফলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে না। দীর্ঘ সময় ধরে একই তীব্রতায় হাঁটতে পারলে শরীর ধীরে ধীরে সঞ্চিত চর্বি পোড়াতে শেখে, যা বিশেষ করে পেটের মেদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে এই ব্যায়াম পদ্ধতি সবার জন্য একইভাবে উপযোগী নয়। যারা একেবারে নতুন করে ব্যায়াম শুরু করছেন, তাদের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে বেশি ঢাল বা দীর্ঘ সময় হাঁটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, শুরুতে কম ঢাল ও কম সময় দিয়ে হাঁটা শুরু করা উচিত। এরপর শরীর অভ্যস্ত হলে ধীরে ধীরে ঢাল ও সময় বাড়ানো যেতে পারে। এতে আঘাতের ঝুঁকি কমে এবং ব্যায়ামের প্রতি শরীরের মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

হৃদ্‌রোগ, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা কিংবা দীর্ঘদিনের হাঁটু ও জোড়ার সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। এ ধরনের শারীরিক অবস্থায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য ট্রেডমিলে ঢালু পথে হাঁটা শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সঠিক পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত চাপ দিলে উপকারের বদলে ক্ষতির সম্ভাবনাও থেকে যায়।

ব্যায়ামের কার্যকারিতা বাড়াতে হাঁটার ভঙ্গির দিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা। ট্রেডমিলের হাতল শক্ত করে ধরে হাঁটলে শরীরের ওজনের একটি অংশ হাতের ওপর চলে যায়, ফলে পা ও কোমরের পেশির কাজ কমে যায়। এতে ক্যালরি খরচের পরিমাণও হ্রাস পায়। সোজা হয়ে সামনে তাকিয়ে, স্বাভাবিকভাবে হাত নাড়িয়ে হাঁটাই সবচেয়ে উপকারী বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি আরামদায়ক ও সঠিক সাপোর্টযুক্ত জুতা পরলে হাঁটার সময় আঘাতের ঝুঁকি কমে এবং দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করা সহজ হয়।

তবে শুধু ট্রেডমিলে হাঁটলেই পেটের মেদ কমে যাবে—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়ামের পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। পরিমিত ক্যালরি গ্রহণ, পর্যাপ্ত প্রোটিন খাওয়া এবং অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। শরীরের ওজন কমানোর ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

এ ছাড়া সপ্তাহে কয়েক দিন হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম যুক্ত করলে শরীরের বিপাকক্রিয়া আরও সক্রিয় থাকে। পেশি যত বেশি সক্রিয় থাকে, শরীর তত বেশি ক্যালরি খরচ করে—even বিশ্রামের সময়ও। ফলে পেটসহ শরীরের অন্যান্য অংশে জমে থাকা মেদ কমানোর প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হয়।

সবশেষে বিশেষজ্ঞরা জোর দেন নিয়মিততার ওপর। অনিয়মিত বা মাঝেমধ্যে ব্যায়াম করলে তেমন কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আসে না। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ট্রেডমিলে ঢালু পথে হাঁটা শুরু করে ধীরে ধীরে সময় ও তীব্রতা বাড়ালে এই সহজ কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে ওজন কমানোর নিরাপদ পথ হয়ে উঠতে পারে। ধৈর্য ও ধারাবাহিকতাই এখানে সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত