প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানদের বৈঠক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩ বার
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বাহিনীপ্রধানদের সাক্ষাৎ

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দ্বিতীয় দিনের মতো সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া তার কর্মসূচিতে সকালেই এনএসআই এবং ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালকের সঙ্গে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার বর্তমান পরিস্থিতি, বাহিনী ও প্রশাসনের কার্যক্রমের অগ্রগতি, এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেলা সাড়ে ১০টার দিকে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রতিরক্ষা, সামরিক সক্ষমতা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সামরিক আধুনিকায়নসহ দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়। কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা এবং সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, তিন বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে এই আলোচনা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এক নতুন কর্মদিশা প্রদান করবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রতিটি বাহিনীর নেতৃত্ব নিজেদের সংশ্লিষ্ট সক্ষমতা এবং আগামি কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। বিশেষভাবে সীমান্ত এলাকা, সমুদ্র এবং আকাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার জন্য সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেলা সাড়ে ১১টায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় যোগ দেন। এই বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন, পরিকল্পনার সময়সীমা, বিতরণ প্রক্রিয়া এবং তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারসহ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন যাতে স্বচ্ছ, দক্ষ এবং সময়মতো হয় তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়।

দুপুরে প্রধানমন্ত্রী আবারও আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় অংশগ্রহণ করবেন। এতে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং দেশের নদী, খাল ও জলাধার পুনর্খনন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং পরিবেশ বান্ধব উন্নয়নের মাধ্যমে জলবায়ু ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা বৃদ্ধির বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয় প্রধান এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একে কার্যকরী করার জন্য প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই দিনব্যাপী বৈঠকগুলো নির্দেশনা এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক, প্রশাসনিক ও পরিবেশ সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপের সমন্বয় দেশের স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড এবং সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতিদিনের এই বৈঠকগুলো দেশবাসীর কাছে সরকারের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রদর্শনের উদ্দেশ্য বহন করছে।

দেশের সামরিক এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে, নিরাপত্তা ও সেবার মান আরও উন্নত হবে। একইসঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণ ও নদী-জলাধার পুনর্খনন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে। এসব পরিকল্পনা সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নীতি ও কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত