৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ: হাইকোর্টে রিট দায়ের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৪২ বার
৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ: হাইকোর্টে রিট দায়ের

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটটি দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের ছয়জন বিশিষ্ট আইনজীবী। বুধবার (৪ মার্চ) দায়ের করা রিটে স্থানীয় সরকার সচিব, নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের ছয়টি সিটিতে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করে। নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মো. শফিকুল ইসলাম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনের নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশনের আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মো. শওকত হোসেন সরকার।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (১) অনুযায়ী করপোরেশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রশাসকরা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে, অধ্যাদেশের ধারা ২৫ক-এর উপধারা (৩) অনুযায়ী তারা মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এছাড়া, আইন অনুযায়ী তারা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

আইনজীবীরা তাদের রিটে যুক্তি তুলে ধরেছেন যে, নির্বাচিত মেয়রের অস্তিত্ব না থাকলেও প্রশাসক নিয়োগের পদ্ধতি ও নিয়মকানুন যথাযথভাবে মেনে চলা হয়েছে কি না তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন, প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন কার্যকর হলেও তা আইনত কতটা বৈধ এবং প্রজাতান্ত্রিক মূলনীতি অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য, তা আদালত নির্ধারণ করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব বহন করে। মেয়রের দায়িত্ব সাময়িকভাবে প্রশাসকদের কাছে হস্তান্তর হলেও জননির্বাচিত প্রতিনিধির গুরুত্ব এবং স্থানীয় সরকারের স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। রিট দায়েরের মাধ্যমে আদালত এই বিষয়টি মূল্যায়ন করবে এবং প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই নিয়োগের ফলে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চলতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, রিট দায়েরের কারণে এটি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম কিছু সময় স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রিটের বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসকদের দায়িত্বকাল ও কর্তৃত্ব সীমিত হতে পারে।

নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকরা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলোতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তারা স্থানীয় পরিষেবা কার্যক্রম, নগর পরিকল্পনা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের তদারকি করছেন। এই প্রশাসকরা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, স্থানীয় জনগণের অভিযোগ সমাধান এবং নগরী পরিষেবার মান উন্নয়নের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই রিট দেশের স্থানীয় সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করবে। আদালত যদি প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে, তাহলে এটি ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকারের নিয়োগ ও প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে, এটি সরকারের জন্য একটি বার্তা হবে যে, প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা এবং জনস্বার্থের সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

জনসাধারণও এই নিয়োগ ও রিট বিষয়ক বিষয়গুলোতে উত্সুক। তারা আশা করছেন, প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনগুলোতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং পরিষেবা প্রদানে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে না। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসকরা দায়িত্ব নিতে পারলে নগরীর সার্বিক উন্নয়ন, যানজট নিয়ন্ত্রণ, নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক সেবা আরও কার্যকর হবে।

সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, আদালতে রিটের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। আইনজীবীরা প্রশাসক নিয়োগের নিয়মনীতি, প্রজ্ঞাপন এবং স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত ধারা নিয়ে বিস্তারিতভাবে আদালতের কাছে উপস্থাপন করবেন। এতে করে দেশের স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নতুনভাবে পর্যালোচনা হবে।

মোটকথা, দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ এবং হাইকোর্টে দায়ের করা রিট উভয়ই স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং আইনগত কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করছে। এটি প্রমাণ করে যে, স্থানীয় সরকার প্রশাসন, রাজনৈতিক স্বচ্ছতা এবং জনস্বার্থের সুরক্ষা সবসময় সমান্তরালভাবে বিবেচনা করতে হবে। আগামীদিনে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে এই নিয়োগের বৈধতা ও প্রশাসক কর্তৃত্বের সীমা স্পষ্ট হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত