ইরানি হ্যাকারদের হামলায় মার্কিন মেডিকেল কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার
মার্কিন মেডিকেল কোম্পানিতে ইরানি হ্যাকারদের হামলা

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্রাইকার’-এর ওপর ইরান সম্পর্কিত হ্যাকিং গ্রুপের সাইবার হামলার ঘটনা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মুদ্রায় তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হ্যাকাররা বুধবার তাদের এক বিবৃতিতে জানান, ইরানের সামরিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ টেরাবাইট তথ্য চুরি করেছে। তাদের দাবি, এই সাইবার অপারেশনটি সম্পূর্ণ সফল হয়েছে এবং হাতিয়ে নেওয়া সব তথ্য এখন ‘বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের হাতে’ রয়েছে।

ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত এএফপি সংবাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলাকারী গ্রুপটির নাম ‘হানদালা’। তারা তাদের বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে, ইরানে ‘মিনাব স্কুলে’ চালানো সামরিক হামলার প্রতিশোধ এবং তেহরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’-এর ওপর চলমান সাইবার হামলার পাল্টা হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গ্রুপটি ইসরাইল ও তাদের সমর্থকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, এটি সাইবার যুদ্ধের নতুন অধ্যায়ের সূচনা মাত্র।

স্ট্রাইকার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার ফলে তাদের ‘মাইক্রোসফট এনভায়রনমেন্ট’-এ বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। তবে কোম্পানি উল্লেখ করেছে, তারা কোনো র‍্যানসমওয়্যার বা ম্যালওয়্যারের প্রমাণ পায়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্ট্রাইকারের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য উইন্ডোজ ডিভাইসের ডেটা দূর থেকে মুছে ফেলা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান-ভিত্তিক হ্যাকার গ্রুপ ‘হানদালা’ গত কয়েক সপ্তাহে ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সংস্থার ওপর ধারাবাহিক হামলার দায় স্বীকার করেছে। বিশেষ করে তারা জেরুজালেমের নিরাপত্তা ক্যামেরার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছে। ইসরাইল-ভিত্তিক সাইবার গোয়েন্দা সংস্থা চেকপয়েন্টের প্রধান গিল মেসিং বলেন, ‘হানদালা ইরান সরকারের সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে কুখ্যাত হ্যাকিং গ্রুপ। আমরা বছরের পর বছর ধরে তাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছি।’

গুগল থ্রেট ইন্টেলিজেন্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গ্রুপ তথ্য চুরি, ফাঁস করা এবং ভীতি ও অনিশ্চয়তা ছড়ানোর কৌশল ব্যবহার করে থাকে। স্ট্রাইকার, যা মিশিগানের কালামাজুতে প্রতিষ্ঠিত, বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। তারা অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্ট থেকে রোবটিক সার্জারি সিস্টেম পর্যন্ত আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি করে এবং ২০২৫ সালে তাদের বার্ষিক আয় ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তাদের ৫৬ হাজার কর্মী কাজ করছে।

হানদালা গ্রুপ পরে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘ভেরিফোন’-এর ওপরও হামলার দাবি করেছে। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং ভেরিফোনের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব পুনরায় সামনে এসেছে। স্বাস্থ্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর ওপর সাইবার হামলা শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং রোগী তথ্য ও চিকিৎসা সেবা সংক্রান্ত নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে মেডিকেল সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, সাইবার হামলার এই ঘটনা ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হানদালা গ্রুপের হামলা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতের ওপর সাইবার আক্রমণের সম্ভাব্য ধারাকে আরও গুরুত্ব দেয় এবং বিশ্বজুড়ে সংস্থাগুলোর সতর্কতা বাড়ানোর আহ্বান জানায়।

পরিস্থিতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও প্রতিশোধমূলক কৌশল এই ধরনের সাইবার হামলার পেছনের মূল কারণ। স্বাস্থ্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষার দিকে আরও মনোযোগ দিতে হবে, যাতে রোগী তথ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা ঝুঁকিমুক্ত থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত