প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীতে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক কিশোরী ও এক বাসচালকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতের এই দুই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবারে, পাশাপাশি নগরীর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকায়। সেখানে একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় প্রাণ হারায় ১২ বছর বয়সী অনিকা তাহসিন। জানা গেছে, অনিকা তার পরিবারের সঙ্গে পূর্ব রামপুরায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি উপজেলায়। সোমবার রাতে ডিআইটি রোডের পলাশবাগ মোড়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকার ইউটার্ন নেওয়ার সময় তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হয় অনিকা।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষুব্ধ জনতা ওই প্রাইভেটকারটি ভাঙচুর করে।
অন্যদিকে একই রাতে রাজধানীর গাবতলী টার্মিনাল এলাকায় আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন মো. জীবন (৪০) নামের এক বাসচালক। তিনি নীলফামারী সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং ঢাকার মিরপুরের কাউন্দিয়া এলাকায় বসবাস করতেন। পেশায় তিনি অসিম পরিবহনের বাসচালক ছিলেন।
জানা গেছে, রাতের দিকে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন জীবন। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে রাত ১২টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত দুইজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই দুই দুর্ঘটনা আবারও রাজধানীর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক নিয়ম অমান্য এবং পথচারীদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাস্তা পারাপারের বিষয়গুলোকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, বরং সচেতনতা বৃদ্ধি, সঠিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে চালক ও পথচারী—উভয়ের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
একই রাতে রাজধানীর দুটি ভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নগরবাসীকে আবারও মনে করিয়ে দিল, সড়কে সামান্য অসতর্কতাও কত বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। দুটি পরিবারের জন্য এটি অপূরণীয় ক্ষতি, যা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।