নারায়ণগঞ্জে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ৩০টি দোকান, ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৪০ বার

প্রকাশ: ১৮ জুলাই । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

নারায়ণগঞ্জ শহরের মণ্ডলপাড়ায় শুক্রবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩০টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের ভয়াবহতায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে পুরো টিনশেড মার্কেটজুড়ে, আর চোখের সামনে পুড়ে যেতে থাকে লাখ লাখ টাকার পণ্যসামগ্রী। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের আহাজারিতে এলাকাজুড়ে নেমে আসে গভীর শোক ও হতাশার ছায়া।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে ছিল কাপড়ের দোকান, কনফেকশনারি, ব্যাটারির দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পোশাক ব্যবসায়ী মো. মুন্না জানান, তাঁর দোকানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার পোশাক ছিল, যা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সব শেষ হয়ে গেল। কোনো কিছুই বাঁচাতে পারিনি।”

কনফেকশনারির দোকান চালাতেন আবদুল হান্নান। আগুনের সংবাদ পেয়ে ছুটে এলেও তিনি সময়ের অভাবে দোকান থেকে শুধু একটি ফ্রিজ বের করতে সক্ষম হন। বাকি সব কিছু আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। তাঁর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১২ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ব্যাটারির দোকানের মালিক ফরিদ মিয়া জানান, দোকানে থাকা প্রায় ৩০ লাখ টাকার ব্যাটারি, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে নিঃশেষ হয়ে গেছে।

মণ্ডলপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মো. শাহজাহান প্রথম আলোকে জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আধা ঘণ্টাব্যাপী কাজ করে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এর আগেই অন্তত ৩০টি দোকান পুড়ে যায়। তিনি জানান, আগুনের প্রকৃত কারণ ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম বলেন, হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে টিনশেড মার্কেটে মোট ৬৪২টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই বাজারেই এই অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং এর মধ্যে অন্তত ৩০টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তিনি জানান, বাজারে দাহ্য পদার্থ ও ঘনবসতি থাকার কারণে আগুন খুব দ্রুত বিস্তার লাভ করে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনরায় ব্যবসায় ফিরিয়ে আনার জন্য নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স ও সিটি করপোরেশনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অগ্নিকাণ্ডে কেউ হতাহত না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিরা এখন দিশেহারা। একদিকে পুঁজি হারানো, অন্যদিকে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা—এই দুইয়ের চাপে তাঁদের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা এবং বাজারগুলোতে অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থার উন্নয়ন করার দাবি উঠেছে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকেও।

সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে আগুনের উৎস চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত