ইরানের দাবি: মার্কিন রণতরী লক্ষ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
  • ২০ বার
মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানের সামরিক বাহিনী বুধবার দাবি করেছে, তারা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে ইরান বিস্তারিত জানায়নি যে, এই হামলায় রণতরীতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের নৌবাহিনী জানিয়েছে, রণতরী লক্ষ্য করে তাদের ‘কদর’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যা রণতরীকে অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।

ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান শাহরাম ইরানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন রণতরী ও এর বহরের গতিবিধি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তিনি জানান, ‘শত্রু নৌবহর আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আসামাত্রই শক্তিশালী হামলার মুখে পড়বে।’ ইরানের সামরিক ঘোষণা বিশ্বমঞ্চে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা এ ধরনের হামলার ঘটনার বিষয়ে ইতিমধ্যেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য ইরানের দাবি নাকচ করে দিয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরী এখনও স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং আঞ্চলিক জলসীমায় ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান অভিযান পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের তরফে বলা হয়েছে, রণতরী কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি এবং নিয়মিতভাবে বিমান উড্ডয়ন ও সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোতায়েন করা হয়েছে ইরানের দক্ষিণে আরব সাগরে, যেখানে এটি বিভিন্ন সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে, ইউএসএস জেরার্ল্ড আর ফোর্ড রণতরী লোহিত সাগরে মোতায়েন করা হয়, কিন্তু একের পর এক হামলার কারণে এটি অচল হয়ে পড়ে এবং বর্তমানে মেরামতের জন্য ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বিশ্বমঞ্চে এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বিশ্ববাজারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক কালে তেলের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া, মার্কিন ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলও উদ্বিগ্ন। অনেক দেশ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি মনিটর করছে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে।

ইরানী কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই হামলা রণতরীকে কেবল অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে, তবে এর বাইরে আর কোনো ক্ষতি হয়নি। ইরান এখনো মার্কিন রণতরী ও নৌবহরের ওপর নজর রাখছে এবং যে কোনো সম্ভাব্য উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার জন্য প্রস্তুত আছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এ ধরনের হামলা মার্কিন কৌশলগত পরিকল্পনায় জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র তা দ্রুত মোকাবিলা করছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য একটি বড় সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংযম এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় নৌচলাচল ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সব দেশের জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত