সৌদি ঘাঁটিতে ইরানি হামলা, আহত ১২ মার্কিন সেনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৭৯ বার
সৌদি ঘাঁটিতে ইরানি হামলা, আহত ১২ মার্কিন সেনা

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলার ঘটনায়। সৌদি আরবের আল-খারজ অঞ্চলে অবস্থিত Prince Sultan Air Base-এ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) পরিচালিত এই হামলায় ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি একাধিক মানববিহীন ড্রোন ব্যবহার করা হয়। হামলার লক্ষ্য ছিল ঘাঁটিতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও বিমান। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং একটি ই-৩ সেন্ট্রি এডাব্লিউএসিএস (AWACS) নজরদারি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ পরিমাণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক কেন্দ্র, যেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নজরদারি, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরেই ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

এই হামলার ঘটনা এমন এক সময় ঘটলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত আকার ধারণ করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই চিকিৎসা শেষে পুনরায় দায়িত্বে ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই অঞ্চলটিতে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এরপর থেকেই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও মিত্রদের ঘাঁটিগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ইরানের তৈরি দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন যুদ্ধের ধরন বদলে দিয়েছে এবং দূরবর্তী ঘাঁটিও এখন আগের মতো নিরাপদ নয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে এর আগেও একাধিকবার হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও সাম্প্রতিক হামলায় কিছু অস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

এদিকে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে যেকোনো উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

চলমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ব্যবহৃত শাহেদ-১৩৬ ধরনের ড্রোন মোকাবেলায় যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞ দেশগুলো প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানালেও বাস্তবে সংঘাত থামার তেমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হামলা ও পাল্টা হামলার এই ধারা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত