শিক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি: নকল করলে কঠোর ব্যবস্থা হবে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ২৪ বার
শিক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি: নকল করলে কঠোর ব্যবস্থা হবে

প্রকাশ: ২৮ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী A N M Ehsanul Haque Milon নতুন এক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে পরীক্ষা ও শৃঙ্খলা বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করছে। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় কোনো ধরনের নকল বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, শুধু শিক্ষার্থীকেই নয়, পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যদি কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম প্রমাণিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, “এইবারের পরীক্ষা হবে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত এবং প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র তাদের মেধার ভিত্তিতে নম্বর অর্জন করুক। কোনো ধরনের দয়া-দাক্ষিণ্য বা অনুকম্পার সুযোগ থাকবে না। এবার থেকে খাতায় ‘গ্রেস মার্ক’ দেওয়া হবে না। ছাত্রছাত্রীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই তাদের মূল্যায়ন হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই মেধার প্রকৃত লড়াই হোক এবং কোনো অযোগ্য শিক্ষার্থী পার না পেয়ে পাস হোক। আমরা আর কোনো অটোপাস চাই না।”

আসন্ন পরীক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে বিশেষ নজর রাখার জন্য মন্ত্রী জানিয়েছেন, এসব কেন্দ্রে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানো হবে এবং পর্যায়ক্রমে সব কেন্দ্রে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে আগের মতো ‘হেলিকপ্টার মিশন’ চালানো হবে। যে কোনো কেন্দ্রেই পরীক্ষার সময় তাত্ক্ষণিকভাবে পরিদর্শন করা হবে, যাতে অনিয়মের সুযোগ না থাকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের পরীক্ষা ও সমমান পরীক্ষা দেশের যেকোনো কেন্দ্রে নকল প্রতিরোধে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকা, চরাঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চল এবং পাহাড়ঘেরা কেন্দ্রগুলোতে কড়া নজরদারি থাকবে। মন্ত্রী ইতিমধ্যেই সব শিক্ষা বোর্ডের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা চেয়েছেন। সেখানে প্রয়োজনে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে লাইভ মনিটরিং চালানো হবে। কোনো অস্বাভাবিক গতিবিধি শনাক্ত হলে শিক্ষামন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের তৎপর টিম সরাসরি ব্যবস্থা নেবেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ এবং ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে, কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর বিশেষ বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে।

মন্ত্রী এসময় শিক্ষার্থীদেরও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, শুধু শিক্ষকদের নয়, শিক্ষার্থীরাও দায়িত্বশীল হতে হবে। যেকোনো ধরনের নকল বা অনিয়মে সরাসরি পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন পরীক্ষা হবে ন্যায্য এবং শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকৃত মেধার প্রমাণ দিতে পারবে।

এছাড়া মন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকা অত্যন্ত জরুরি। পরীক্ষার শৃঙ্খলা বজায় রাখা শুধু শিক্ষার্থীর স্বার্থ নয়, এটি আমাদের দেশের শিক্ষাক্ষেত্রের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নও।” তিনি যোগ করেন, অভিভাবক ও সমাজের অংশগ্রহণের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালনা করা সম্ভব।

মুক্তির পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই ২১ এপ্রিল থেকে দেশের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এবার পরীক্ষা সংক্রান্ত কঠোর ব্যবস্থা এবং জিরো টলারেন্স নীতি শিক্ষার স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করতে একটি নজির স্থাপন করবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আশা করছে।

এদিকে, মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই পরীক্ষা শুধুমাত্র মেধা যাচাই নয়, এটি শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা ও সততা দেখানোর একটি সুযোগ। যেকোনো ধরনের নকল থেকে বিরত থাকা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে সাফল্য অর্জনের পথ সুগম হবে।”

এবারের পরীক্ষার ক্ষেত্রে খাতার মূল্যায়নে কোনো ধরনের দয়া-দাক্ষিণ্য বা বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত যোগ্যতা অনুযায়ী নম্বর প্রদান করা হবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা এবং লাইভ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের এই কঠোর নির্দেশনা শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং নকলমুক্ত পরীক্ষার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সবাইকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপ দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে তুলবে এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা অনুযায়ী মূল্যায়ন নিশ্চিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত