অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপালে পরিণতি শুভ হবে না: পরওয়ার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ১৫ বার
অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপালে পরিণতি শুভ হবে না: পরওয়ার

প্রকাশ: ২৮ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার শনিবার (২৮ মার্চ) খুলনা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঈদ-পরবর্তী প্রীতি সমাবেশে সতর্ক করে বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের ওপর অন্যায় ও একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত চাপানো হলে তার পরিণতি কখনোই শুভ হবে না। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অতীতের ইতিহাস আমাদের শেখায় যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণকে দমন করার চেষ্টা কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

তিনি বলেন, “যে কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভে জনগণকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছে, শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি। গণতান্ত্রিক সমাজে জনগণের স্বার্থ অগ্রাহ্য করে অন্যায়ের পথে চললে তা সমাজে অস্থিরতা ও সংকট সৃষ্টি করে।” তিনি সরকারের ওপর আলোকপাত করে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার দায় সম্পূর্ণ সরকারের। যদি এই সংকট দীর্ঘায়িত হয়, তবে তার দায়ও সরকারকেই বহন করতে হবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “একই প্রক্রিয়ায় গণভোট ও সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে একটিকে বৈধ ও অন্যটিকে অবৈধ বলা হচ্ছে, যা বিবেকবিরোধী ও প্রতারণার শামিল। দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের দায়িত্ব সরকারের। সরকার যেন জনগণকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দেয় এবং রাজপথে নামতে বাধ্য না করে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে জামায়াতে ইসলামি বিপুলসংখ্যক আসনের বিরোধী দলে অবস্থান করছে এবং ড. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করছেন। এটি দেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামি কোনো বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস বা সহিংস রাজনীতি সমর্থন করে না। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা আপসহীন থাকবে। সৎ ও ন্যায়পরায়ণ কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে, অন্যায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবে।

সংসদের সামনে আসা অধিবেশনকে ঘিরে সাবধানবার্তাও দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সংসদ যেন সংবিধান, আইন ও কার্যপ্রণালি বিধির বাইরে না যায়, অন্যথায় নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে। তিনি জানান, দলের সংসদীয় সদস্যদের জন্য ইতিমধ্যে কার্যকর কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা মহানগরী জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি এবং হিন্দু কমিটির নেতা কৃষ্ণ নন্দী। মহানগরী সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুজ্জামানের পরিচালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আঞ্চলিক সহকারী পরিচালক খান গোলাম রসুল, খালিশপুর থানা আমির আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর কবীর, মুনসুর আলম চৌধুরী, ব্যবসায়ী নেতা সিদ্দিকুর রহমানসহ অন্যান্য নেতা।

বিশেষ অতিথি কৃষ্ণ নন্দী বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ১১ দলীয় জোটকে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হতে হবে।” তিনি ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে আরও উঠে আসে, দেশের জনগণকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুরক্ষা নিশ্চিত করা না হলে রাজনৈতিক সংকট দীর্ঘায়িত হবে, যা সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করবে। তিনি বিশেষভাবে হুঁশিয়ারি দেন, সরকার যেন সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভে জনগণের অধিকার হরণ করতে চেষ্টার পথে না যায়।

জামায়াতে ইসলামের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, তারা বিরোধী দলে থাকলেও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাজনীতি বজায় রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেয়ার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে ন্যায় ও নৈতিকতার ভিত্তি রক্ষা করা হবে। তিনি বলেন, সমাজে যে কোনো ধরনের জবরদস্তি ও অন্যায় হলে জনগণকে সচেতন ও সংহত থাকার আহ্বান জানানো হবে।

এই অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিরোধী দলের ভূমিকা, জনগণের অধিকার ও সংবিধান রক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা দেশকে সংঘাত ও অশান্তির দিকে ঠেলে না দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক সচেতনতা এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। বিশেষভাবে, জনগণকে রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সংক্ষেপে, মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য জামায়াতে ইসলামি আপসহীন। সরকার যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়, তবে তা সমাজে অশান্তি ও রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দেবে। দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার যথাযথ রক্ষা, সংবিধান ও আইন মেনে চলার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত