দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বৃদ্ধি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৩ বার
স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি বাংলাদেশ বাজার

প্রকাশঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম পুনরায় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সমন্বয় অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকায়। বাজুসের এই নতুন মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে। দেশের বাজারে স্বর্ণের এমন ধারাবাহিক দাম বৃদ্ধির পেছনে স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নিয়মিত সমন্বয় করা হয়। নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, ৩১ মার্চ সকালে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। তখন ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২১৩ টাকা। এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফলে চলতি বছরে স্বর্ণের দাম দেশের বাজারে মোট ৫১ বার সমন্বয় করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের অস্থিরতা, বৈশ্বিক আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদা দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্যে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ এবং স্থিতিশীল বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে পছন্দ করেন। এ কারণে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে দামও সমন্বিতভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৩০ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং ২১ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার বৃদ্ধি ও ২৯ বার হ্রাস হয়েছিল।

স্বর্ণের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে রুপার দাম দেশের বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম দেশের বাজারে ৩০ দফা সমন্বয় করা হয়েছে; যেখানে ১৭ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৩ বার কমানো হয়েছে।

স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের এই নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর পেশাদার জুয়েলাররা বলছেন, দাম বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকরা কিছুটা সতর্ক হয়ে খরচের পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে বিবাহ, বৎসরপূর্তি, ধর্মীয় উৎসব ও বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণ ক্রয় সাধারণত জনপ্রিয়। দাম বাড়ার ফলে ক্রেতারা স্বর্ণের পরিমাণ ও ক্রয় পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছেন। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাজারে স্বর্ণের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে এবং ক্রেতাদের স্বাভাবিক ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা বা অস্থিরতার সঙ্গে সম্পর্কিত। বৈশ্বিক সংকট, রপ্তানি-আমদানি খরচ, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি স্বর্ণের চাহিদা ও মূল্যে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে, বাংলাদেশের বাজারেও নিয়মিত সমন্বয় প্রয়োজন হয়।

এদিকে বিনিয়োগকারীরা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। অনেকে স্বর্ণ ক্রয়কে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মতো দেখছেন। মূল্য বৃদ্ধির কারণে স্বর্ণের সামান্য পরিমাণ ক্রয় করলেও সেটি ভবিষ্যতে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত। পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে বাজুস স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করছে যাতে বাজারে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অতিরিক্ত দরকাপাত না হয়।

সার্বিকভাবে, বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। তবে স্বর্ণের বাজারে স্থিতিশীল সরবরাহ, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বজায় রাখার মাধ্যমে আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা সম্ভব। দেশের বাজারে চলতি বছরের প্রথম দিন থেকে স্বর্ণের ক্রয়-বিক্রয়কে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করতে বাজুস নিয়মিত সমন্বয় অব্যাহত রাখছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত