ঢাকার বায়ু আজও ‘অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থানে’

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার
ঢাকার বাতাস আজও ‘অস্বাস্থ্যকর’

প্রকাশঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানী ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় আবারও শীর্ষের দিকে অবস্থান করেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আইকিউএয়ারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকার বায়ু দূষণ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ মানের হয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে। বিশ্বের ১১৪টি শহরের মধ্যে এই অবস্থানটি স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ শহরের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

আইকিউএয়ারের একিউআই সূচক মূলত পাঁচ ধরনের দূষণের উপর নির্ভরশীল। এগুলো হলো অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম১০ ও পিএম২.৫, নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন। এই সূচক অনুযায়ী, বায়ুর মানকে ‘মাঝারি’ বলা হয় যখন একিউআই মান ৫০ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকে। তবে ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই বিপজ্জনক মানে সাধারণ মানুষসহ সব ধরনের জনগোষ্ঠীর জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।

ঢাকার বর্তমান একিউআই স্কোর অন্যান্য দূষিত শহরের সঙ্গে তুলনা করলে উদ্বেগজনক। থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই শহর ২৫০ স্কোরের সঙ্গে শীর্ষে রয়েছে, যা খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত। পাকিস্তানের লাহোর ও চীনের সাংহাই যথাক্রমে ১৬৩ এবং ১৬০ স্কোর নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে। ঢাকার অবস্থান অষ্টম হওয়ায় দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় মানুষদের জন্য বায়ু দূষণ এখন স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা।

ঢাকার বায়ু দূষণের প্রধান উৎস হিসেবে বলা হচ্ছে যানবাহনের সংখ্যা, শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া, ধূলিকণার প্রভাবে নির্মাণ কাজ এবং ঘরোয়া ইন্ধনের ব্যবহার। রাজধানীতে প্রতিদিন লাখো যানবাহন চলাচল করে এবং বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান নিরবচ্ছিন্নভাবে ধোঁয়া ও বায়ুদূষণ সৃষ্টি করে। এছাড়া, আবহাওয়া এবং মৌসুমী বাতাসের অভাব দূষিত কণাগুলোকে শহরের মধ্যে আটকে রাখে, ফলে বায়ুতে দূষণের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ুর মধ্যে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে ভোগা মানুষদের জন্য বিশেষভাবে সতর্ক থাকা জরুরি। তারা দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় থাকা এড়াতে, বায়ু ফিল্টারযুক্ত মাস্ক ব্যবহার করতে এবং শিশুমানুষ ও বৃদ্ধদের বাড়ির ভেতরে রাখা স্বাস্থ্যকর। দীর্ঘমেয়াদী দূষণ শ্বাসনালীতে প্রদাহ, হাঁপানি, হৃদরোগ ও ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

আইকিউএয়ার জানাচ্ছে, ঢাকার দূষণ মোকাবিলায় কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরি। এর মধ্যে যানবাহনের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা, শিল্প নির্গমন নিয়ন্ত্রণ, ধূলিকণা কমানোর উদ্যোগ, সবুজাঞ্চল বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গাড়ি থেকে নির্গত ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে এনফোর্সমেন্ট ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার অপরিহার্য।

তবে ঢাকাবাসীর জন্য ইতিবাচক দিক হলো, সংস্থা নিয়মিত তথ্য আপডেট করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক রাখছে। বায়ুর মানের উপর নজরদারি বাড়ানো হলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে। এছাড়া, স্কুল ও অফিসে দূষণ সংক্রান্ত সতর্কতা প্রদানের মাধ্যমে মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় এড়িয়ে চলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা শহরের দূষণ মোকাবিলায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু প্রযুক্তিগত সমাধান নয়, সচেতন নাগরিকও শহরের বায়ুদূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মধ্যে যানবাহনের সংখ্যা কমানো, প্লাস্টিক ও ধূলিকণা উৎপাদন কমানো, গাছপালা বৃদ্ধি করা এবং সবুজ যানবাহন ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত।

দূষণজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোও ঢাকার বায়ুদূষণের ওপর নিয়মিত গবেষণা করছে। তারা শহরের বায়ু মান উন্নয়নে নির্দিষ্ট নীতিমালা ও প্রস্তাবনা প্রদান করছে, যা বাস্তবায়িত হলে ঢাকার বায়ুর মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। তবে বর্তমানে রাজধানীর নাগরিকদের জন্য এই ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

ঢাকার বায়ু দূষণ বিষয়টি শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং শহরের জীবনযাত্রার মানেও প্রভাব ফেলে। তাই প্রশাসন ও নাগরিকরা একসঙ্গে কাজ করলে দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যা কমানো সম্ভব। কিন্তু আপাতত, ঢাকাবাসীর জন্য প্রয়োজন প্রতিদিন বায়ুর মান মনিটর করা এবং অতি দূষিত সময়গুলোতে সতর্ক থাকা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত