প্রকাশঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় সংসদে আজকের অধিবেশনে সরাসরি সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জন্য আজকের কার্যসূচিতে ৩০ মিনিট সময় বিশেষভাবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সংসদে নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করবেন। এতে সংসদ সদস্যরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের উদ্বেগ, নীতিমালা সংক্রান্ত প্রশ্ন এবং দেশের চলমান বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন। এই পদক্ষেপকে সংসদের জবাবদিহিমূলকতা বাড়ানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি নির্দিষ্ট দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিন, বিশেষ করে বুধবার, প্রধানমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ রাখা হলে সংসদীয় কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত এবং কার্যকর হবে। এই প্রস্তাব সংসদের মুলতবি অধিবেশনে একটি সংসদ সদস্যের বক্তব্যের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়। সংসদের স্পিকার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রস্তাবটি রেফার করার নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সরাসরি অংশগ্রহণকে সংসদের সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। তারা মনে করছেন, এটি সংসদের প্রাণচাঞ্চল্য বৃদ্ধি করবে এবং জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। বিশেষ করে জনগণের সাম্প্রতিক উদ্বেগ, অর্থনৈতিক নীতি, সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প এবং দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি পাওয়া সম্ভব হবে।
এই পদক্ষেপটি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যেও নেওয়া হয়েছে। সংসদীয় কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন নীতিমালা, কর্মসূচি এবং প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কেও সংসদ সদস্যদের অবহিত করতে পারবেন। এটি শুধুমাত্র সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে না, বরং সংসদের সদস্যদেরও নীতি-নির্ধারণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সংসদকে আরও সক্রিয়, অংশগ্রহণমূলক ও জনমুখী করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সাধারণ জনগণও প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগের মাধ্যমে সরকারি নীতিমালা ও কার্যক্রম সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ ধারণা পাবে। এটি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার জবাবদিহিমূলক বৈশিষ্ট্যকে দৃঢ় করবে এবং জনগণ সরকারের কার্যক্রমের সঙ্গে আরও সংযুক্ত অনুভব করবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বর্তমান নীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের সমস্যা, পরিকল্পনা ও অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি সংসদে সরকারের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে এবং জনগণের আস্থা জোরদার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, এই নতুন ব্যবস্থা মূলত একটি প্রক্রিয়াগত সংস্কার। প্রধানমন্ত্রীকে নির্দিষ্ট সময়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হলে সংসদ সদস্যরা আরও কার্যকরভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তুলে ধরতে সক্ষম হবেন। এটি সরকারের দায়িত্বপূর্ণ আচরণের প্রমাণ হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অংশগ্রহণের এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। তারা মনে করেন, এটি সংসদকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী করে তুলবে। সংসদ সদস্যদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যেখানে তারা সরাসরি নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে সংলাপ করতে পারবে এবং দেশের চলমান সমস্যাগুলোর সমাধান দ্রুততম সময়ে প্রাপ্তির আশা রাখতে পারবে।