জরাজীর্ণ সিলেট স্টেডিয়াম, ক্ষোভে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫০ বার
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

প্রকাশঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনের এক সময়ের প্রাণকেন্দ্র সিলেট জেলা স্টেডিয়াম এখন যেন অবহেলা আর অযত্নের এক নীরব সাক্ষী। ভেঙে পড়া অবকাঠামো, অনিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এর জৌলুস। এই বাস্তবতা সরেজমিনে দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

বুধবার (১ এপ্রিল) স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি সম্ভাবনাময় ক্রীড়া অবকাঠামো এভাবে ধ্বংসের পথে চলে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলেই আজ স্টেডিয়ামটির এই করুণ দশা দেখতে হচ্ছে। উন্নয়নের নামে যে অপচয় ও দুর্নীতি হয়েছে, তার প্রভাব এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই মাঠের প্রতিটি ইট-পাথরে।

পরিদর্শনের সময় স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী। গ্যালারির ভাঙা আসন, অনুপযোগী ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নষ্ট ড্রেসিং রুম এবং অযত্নে পড়ে থাকা মাঠ—সবকিছুই তাকে হতাশ করেছে। তিনি বলেন, একটি জেলার ক্রীড়া বিকাশের জন্য এমন একটি মাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ সেটিই এখন খেলাধুলার জন্য প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করার আহ্বান জানান এবং স্টেডিয়ামটিকে দ্রুত খেলাধুলার উপযোগী করে তোলার ওপর জোর দেন। তার মতে, ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন শুধুমাত্র অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে।

এই পরিদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল আসন্ন একটি জাতীয় কর্মসূচি। প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ৩০ এপ্রিল এই মাঠ থেকেই দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টসের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই লক্ষ্যেই স্টেডিয়ামকে দ্রুত প্রস্তুত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিয়ে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। ফুটবল ও ক্রিকেটসহ মোট সাতটি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। দেশের প্রতিটি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হবে, যা ভবিষ্যৎ ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে তাদের জন্য বিশেষ ক্রীড়া বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরেই খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। তার মতে, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম এবং এটি জাতির সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

খেলোয়াড়দের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই লক্ষ্য সামনে রেখে ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ ভাতা এবং ক্রীড়া কার্ড চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২৯ জন খেলোয়াড় এই সুবিধা পেয়েছেন এবং খুব শিগগিরই আরও ৫০০ জন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় এই আওতায় আসবেন বলে তিনি জানান।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন। সেখানে অবকাঠামোগত সুবিধা ও রক্ষণাবেক্ষণের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সন্তোষ প্রকাশ করলেও ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনকালে সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। স্থানীয় ক্রীড়াবিদ এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যেও এই পরিদর্শন নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অবহেলার পর সরকারি উচ্চপর্যায়ের এই নজরদারি সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির মতো জাতীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি হবে।

সবশেষে বলা যায়, একটি স্টেডিয়ামের জীর্ণ দশা শুধু একটি অবকাঠামোর সমস্যা নয়, বরং তা একটি অঞ্চলের ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রতিফলন। তাই সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের দ্রুত সংস্কার শুধু একটি প্রয়োজনই নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত