প্রকাশঃ ০২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যশোরের বেনাপোল সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অভিযান চালিয়ে দুই কেজি ৮০০ গ্রাম ভারতীয় বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত এই বিস্ফোরকের মধ্যে ১৪০০ গ্রাম ভারতীয় মসলা পাউডার এবং ১৪০০ গ্রাম পটাশ পাউডার রয়েছে। তবে অভিযানের সময় কোনো অপরাধীকে ধরা যায়নি। বুধবার (২ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে বেনাপোল কার্গোভেহিকেল টার্মিনালের বড় আঁচড়া গ্রামের পেছনের একটি ফুলবাগান থেকে এই বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
যশোর ব্যাটালিয়ন-৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পেরেছিলেন যে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের উদ্দেশ্যে বড় আঁচড়া গ্রামের বেনাপোল কার্গোভেহিকেল টার্মিনালের পেছনে বিস্ফোরক মজুদ করা হয়েছে। বিজিবি দ্রুত অভিযান চালিয়ে ছোবহানের বাড়ির পাশে ফুলবাগান থেকে এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। অভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক রাতেই থানায় জমা দেয়া হয়েছে এবং একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বেনাপোল বন্দর ফায়ার ইন্সপেক্টর শাহিনুর রহমান জানান, কেপিআই নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দর স্থাপনার ১০০ গজের মধ্যে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা বিস্ফোরক সংরক্ষণ করতে পারবে না। তিনি বলেন, অবৈধভাবে বিস্ফোরক সংগ্রহ করা বিপজ্জনক এবং তাপ বিকিরণ বা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে বিস্ফোরণে মানুষের প্রাণহানি, আমদানি পণ্য এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হতে পারে। তাই বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানান, বন্দর সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে এবং আশপাশের স্থাপনাগুলোর অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, বন্দর এলাকায় অবৈধ বিস্ফোরক সংরক্ষণ প্রতিরোধ এবং অপরাধমূলক কার্যক্রম রোধে তারা সতর্ক রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন হলে পুলিশের সহায়তাও নেওয়া হবে।
বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকের ঘটনাস্থলটি ছোবহানের বাড়ির পাশে একটি ফুলবাগান। তিনি বলেন, বিস্ফোরক মজুদের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী কারণে এটি আনা হয়েছে তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে। এছাড়া, এই ধরনের অভিযান বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সন্ত্রাস ও অবৈধ কার্যক্রম রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, সীমান্ত এলাকা থেকে এমন ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধার দেশের নিরাপত্তার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তা তদারকি বাড়াতে এবং সীমান্তে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সচেষ্ট। বেনাপোল বন্দর থেকে এই ধরনের অভিযান সাধারণ জনগণ ও বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এই অভিযান দেখিয়েছে যে সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাস ও অবৈধ কার্যক্রম ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক ও সজাগ। বাংলাদেশ সীমান্তে যে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম রোধে বিজিবি ও পুলিশ অব্যাহতভাবে নজর রাখছে। বেনাপোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্ট থেকে বিপজ্জনক সামগ্রী উদ্ধার করা নিরাপত্তা ও জনজীবনের সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখে।