ন্যাটো ব্যয় নিয়ে কড়া অবস্থানে ট্রাম্প

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার
ন্যাটো ব্যয় ট্রাম্প মন্তব্য

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয় ও ন্যাটো জোটে দেশটির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান ও ইসরাইল ইস্যুতে সাম্প্রতিক সংকটের সময় ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জোটে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অবদান গভীরভাবে পর্যালোচনার ঘোষণা দেন।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ন্যাটো জোটে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নের মুখে রয়েছে। তার দাবি, এই ব্যয় কতটা যুক্তিসঙ্গত এবং জোটের অন্যান্য সদস্য দেশগুলো তাদের ন্যায্য দায়িত্ব পালন করছে কি না, তা এখন থেকে বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করে দেখা হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, সংকটময় সময়ে ন্যাটো জোট যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, ইরান ও ইসরাইল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র একা দায়িত্ব পালন করলেও জোটের অন্যান্য সদস্যরা প্রত্যাশিত ভূমিকা নেয়নি। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে জোটের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব ও অবদান নতুনভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ ব্যয় করে আসছে। এই ব্যয়কে তিনি অত্যধিক এবং অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বলেও মন্তব্য করেন। তার মতে, প্রতিরক্ষা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের এত বড় অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে না।

ট্রাম্প বলেন, অনেক ন্যাটো সদস্য দেশ তাদের প্রতিরক্ষা বাজেটে ন্যায্য অংশ দিচ্ছে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত বোঝা বহন করতে হচ্ছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট করছে বলে তিনি মনে করেন। এই পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জোটের ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নির্ভর করছে সদস্য দেশগুলোর দায়িত্বশীলতার ওপর।

তার এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ন্যাটো ব্যয়ের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়, তাহলে জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও ভবিষ্যৎ কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

ন্যাটো দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা বিশ্বের নিরাপত্তা জোট হিসেবে কাজ করে আসছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক অবদানকারী দেশ। তবে ট্রাম্প বরাবরই এই ব্যয়ের সমালোচনা করে আসছেন এবং জোটের অন্যান্য সদস্যদের আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে। এতে করে জোটের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অবস্থান ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরে চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে আসতে পারে।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন সময় ন্যাটো জোটের ভেতরে আর্থিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়লে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে জোটভিত্তিক নিরাপত্তা কাঠামোর পরিবর্তে দ্বিপাক্ষিক বা সীমিত সহযোগিতার দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরীণ আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সদস্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে কীভাবে মোকাবিলা করবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

সব মিলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্য ন্যাটো জোটে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত