তেহরানে ৭৭ ঐতিহাসিক স্থাপনায় ক্ষতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার
তেহরানে ৭৭টি ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানের রাজধানী তেহরানে সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ৭৭টি ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বা পৃথক হামলার প্রভাবে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ইতিহাস সংরক্ষণ ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তেহরানের ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ কমিটির সম্পাদক সাজ্জাদ আসঘারি ক্ষয়ক্ষতির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বহু পুরনো প্রাসাদ, জাদুঘর, ঐতিহাসিক ভবন এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপত্য নিদর্শন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা’র বরাতে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ৭৭টি স্থাপনার মধ্যে ৩৮টি জাতীয়ভাবে নিবন্ধিত ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত। এসব স্থাপনা শুধু ইরানের ইতিহাস নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও বিবেচিত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে প্রায় ২৭টি কাজার আমলের, যা ইরানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল হিসেবে পরিচিত। এসব স্থাপনার অনেকগুলোই শত বছরের পুরোনো, যা ঐতিহাসিক গবেষণা ও পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

সাজ্জাদ আসঘারি জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রায় ৯০ শতাংশই তুলনামূলকভাবে আংশিক বা হালকা প্রকৃতির হলেও, বাকি ১০ শতাংশ স্থাপনায় গুরুতর ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। কিছু ক্ষেত্রে ভবনের কাঠামোগত ক্ষতি এতটাই বেশি যে তা পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় ও বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফারোখাবাদ প্রাসাদ, ইশরাতাবাদ প্রাসাদ, কাহাক মিল, কাসর কারাগার, মার্বেল প্রাসাদের পাথরের গেট, আহমদ রেজা পাহলভি প্রাসাদ এবং রফি নিয়া সিনাগগ হাউস। এসব স্থাপনা তেহরানের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।

স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও স্থাপত্য বিশেষজ্ঞরা এই ক্ষয়ক্ষতিকে দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, এমন ক্ষতি শুধু স্থাপত্য ধ্বংস নয়, বরং ইতিহাস ও পরিচয়ের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, যুদ্ধ বা সংঘাতের সময় ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কোনো নতুন ঘটনা নয়, তবে তেহরানের মতো ঐতিহ্যবাহী শহরে একসঙ্গে এতগুলো স্থাপনার ক্ষতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু সাংস্কৃতিক ক্ষতি নয়, বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনাকেও আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। কারণ ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের দৃষ্টিতেও সংবেদনশীল বিষয়।

তেহরানের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়, বরং তাদের ইতিহাস, স্মৃতি ও পরিচয়ের অংশ। এসব ক্ষতির ফলে শহরের সাংস্কৃতিক ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এমন ক্ষয়ক্ষতি ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে যদি কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তাহলে সাংস্কৃতিক ও মানবিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

সরকারি পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্গঠন ও সংরক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুনর্গঠন যতই করা হোক, মূল ঐতিহাসিক মূল্য পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে তেহরানের এই ক্ষয়ক্ষতি শুধু একটি শহরের নয়, বরং পুরো অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত