মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৬ বার
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ আশঙ্কা

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ভেঙে পড়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে যুদ্ধ ও সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র আকার ধারণ করেছে। আলোচনার ব্যর্থতা, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা পুরো অঞ্চলকে আবারও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

দোহা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসলামাবাদে টানা প্রায় ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা আলোচনার পর দুই দেশের প্রতিনিধিরা কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ করেন। আলোচনায় অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেন, দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এতটাই গভীর পার্থক্য রয়েছে যে তা আপাতত সমাধান করা সম্ভব হয়নি।

এই ব্যর্থ আলোচনার পরপরই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দুই দেশের প্রতিনিধিদলই দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফিরে যায় এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি বা নতুন আলোচনার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহর ও রাজধানীতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দোহায় বসবাসকারী অর্থনৈতিক পরামর্শক আইশাহ জানান, পরিস্থিতি যে কোনো সময় বদলে যেতে পারে—এমন অনিশ্চয়তা মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। তার মতে, এখন প্রতিটি দিনই নতুন আশঙ্কা নিয়ে শুরু হচ্ছে।

অন্যদিকে ইসরাইলের তেল আবিবে এক স্কুলশিক্ষক লরা কাউফম্যান বলেন, শুরু থেকেই আলোচনার ফলাফল নিয়ে খুব বেশি আশাবাদ ছিল না। তার মতে, দুই পক্ষের লক্ষ্য এতটাই ভিন্ন যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান পাওয়া কঠিন ছিল।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ইসরাইলের জনগণের একটি বড় অংশ মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান পরিস্থিতি প্রত্যাশিত ফল আনতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সাধারণ মানুষও শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন।

তেহরানে এক রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মাহসা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্থিরতা মানুষের জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। তার মতে, শান্তির প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবতা দ্রুতই ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে।

আবুধাবিতে বসবাসরত মিশরীয় গৃহিণী ইমাম জানান, আগের হামলা ও উত্তেজনার অভিজ্ঞতা এখনও মানুষকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতি আবারও খারাপ দিকে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার ব্যর্থতা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্কই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য অবরোধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এর মধ্যেই সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ব-পশ্চিম জ্বালানি অবকাঠামোর কিছু অংশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

ইরানে অনেক মানুষ এখন যুদ্ধের আশঙ্কাকে প্রায় অনিবার্য হিসেবে দেখছেন। তেহরানের ৩৭ বছর বয়সী এক বাসিন্দা বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে।

লেবাননেও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে। সেখানে নতুন করে হামলা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

একজন স্থানীয় চিকিৎসক লেবাননকে ‘বিশ্বের সংঘাতের কেন্দ্রস্থল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আলোচনার অগ্রগতি না হলে এর প্রভাব শুধু অঞ্চল নয়, পুরো বিশ্বেই পড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য আবারও বড় ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে। এতে শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন পুরো বিশ্ব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত