সর্বশেষ :
২০২৬ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন, ফুটবল টুর্নামেন্টে নতুন যুগের ইঙ্গিত সোমালি রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইয়ান রাইট ২০২৬ বিশ্বকাপ: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? মিরসরাইয়ে নিখোঁজ তিন কিশোর উদ্ধার, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে মেলান্দহে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে: ভারতীয় হাইকমিশনার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৮ বার
বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, বোঝাপড়া এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎগুলোকে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক আখ্যা দিয়ে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কই নয়, বরং আবেগ, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক গভীর যোগসূত্র রয়েছে, যা দুই দেশকেই আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলেছে।

প্রণয় ভার্মা বলেন, জ্বালানি, যোগাযোগ, বাণিজ্য ও সংস্কৃতি—এই সব খাতে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। একই ইতিহাস ও ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বহন করায় দুই দেশের জনগণের মধ্যেও পারস্পরিক সম্পর্ক গভীর। তিনি আরও বলেন, যেসব ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করলে দুই দেশের জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে, সেসব ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি জানান, দুই দেশের সংসদীয় কার্যক্রমে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের উন্নয়ন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতীয় হাইকমিশনার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সংসদ ভবনের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা আজও অটুট রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ভারতের সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্ককে একটি বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্পিকার আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দেশটির সহযোগিতা অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সভাপতি পদে মনোনয়নে ভারতের সমর্থনকে দুই দেশের সহযোগিতামূলক সম্পর্কের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান জাতীয় সংসদ অত্যন্ত সক্রিয় ও প্রাণবন্তভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যেখানে বিরোধী দলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করতে দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। চিকিৎসা সেবা সহজীকরণ এবং ভিসা প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে পৃথক সাক্ষাতে হাইকমিশনার সংসদীয় তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে কূটনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে। তিনি বিশেষভাবে ভারতের লোকসভার সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেও এ বিষয়ে মতামত রয়েছে। তবে এ ধরনের কাঠামোতে ভারসাম্য ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ভবিষ্যতে আরও আলোচনার দাবি রাখে।

ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং ভারত সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার প্রদান করেন।

সাক্ষাৎকালে ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুরো বৈঠকজুড়ে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে সংসদীয় ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়লে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এখন এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে আস্থা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থকে ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত