হরমুজে উত্তেজনা বাড়াল চীনা জাহাজের যাত্রা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি পার হলো চীনের জাহাজ

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একটি চীনা মালিকানাধীন তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও শিপিং ডেটা বিশ্লেষণকারী সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘রিচ স্টারি’ নামের ওই ট্যাংকারটি গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি পার হয়। জাহাজটি এমন একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন, যেটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জাহাজটি চীনা ক্রু দ্বারা পরিচালিত এবং অতীতে ইরানের জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগেও যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল। এর আগে জাহাজটির নাম ছিল ‘ফুল স্টার’।

শিপিং ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়া বন্দর থেকে প্রায় আড়াই লাখ ব্যারেল মিথানল নিয়ে যাত্রা করছিল। যাত্রাপথে এটি প্রথমে ইরানের কেশম দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছে কিছু সময়ের জন্য ফিরে গেলেও পরে আবার সমুদ্রপথে অগ্রসর হয়ে প্রণালি অতিক্রম করে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাহাজটির এই আচরণ কেবল একটি বাণিজ্যিক যাত্রা নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে জাহাজটি নিজের অবস্থান ও মালিকানার তথ্য প্রকাশ করে চলাচল করায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নৌ অবরোধ গত সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অবরোধের মূল লক্ষ্য ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করা এবং দেশটির অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা। তবে এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

এদিকে একই সময়ে আরও একটি ট্যাংকার ‘এলপিস’ ওমান উপসাগরে প্রবেশ করেছে বলে শিপিং ট্র্যাকিং সূত্র জানিয়েছে। জাহাজটি এর আগে ইরানের একটি বন্দরে নোঙর করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের সামুদ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বৈশ্বিক তেলের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো উত্তেজনা বা বাধা বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের ওপর গুরুত্ব দেন বলে জানা গেছে। চীন বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে, বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখার স্বার্থে।

অন্যদিকে, জাহাজটির পতাকা নিবন্ধন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এটি মালাউইয়ের পতাকাবাহী হিসেবে নিবন্ধিত বলে দাবি করা হলেও দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কাছে কোনো সক্রিয় সমুদ্রগামী জাহাজ নিবন্ধনের তথ্য নেই। এতে জাহাজটির আইনি অবস্থান নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠেছে।

নথিপত্র অনুযায়ী, ট্যাংকারটির মালিকানা সাংহাইভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, যেটিও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। ফলে পুরো ঘটনাটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান এই পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। যদি এ ধরনের ঘটনাগুলো বৃদ্ধি পায়, তাহলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও তেলবাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে চীনা জাহাজের এই অতিক্রম আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন, নিষেধাজ্ঞা নীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতির জটিলতাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত