তৌহিদ আফ্রিদির জামিন বহাল, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ৭৯ বার
তৌহিদ আফ্রিদি জামিন বহাল রায় আপিল আদালত সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির জামিন বহাল রেখেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি হত্যা মামলায় তার গ্রেফতার ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে যে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম হয়েছিল, এই রায়ে সেই মামলার আইনি অগ্রগতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী এলাকায় আসাদুল হক বাবু নামের এক ব্যক্তি সহিংসতার শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে নিহতের পরিবার যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

পরবর্তীতে ৩০ আগস্ট দায়ের করা ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়। আলোচিত এই মামলায় নাসির উদ্দিন সাথীকে ২২ নম্বর এবং তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে ১১ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলাটি শুরু থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত বছরের ২৫ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং তখন থেকেই তার জামিন নিয়ে আইনি লড়াই চলতে থাকে।

দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়ার পর নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে বিষয়টি উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে আসে। সর্বশেষ শুনানিতে আপিল বিভাগ তৌহিদ আফ্রিদির জামিন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেয়। আদালতের এই রায়ের ফলে তিনি আপাতত জামিনে মুক্ত থাকবেন বলে জানা গেছে, যদিও মামলার মূল বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্ত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়, বরং একটি অন্তর্বর্তীকালীন আইনি অবস্থানকে নিশ্চিত করেছে। তারা বলছেন, মূল অভিযোগের বিচারিক কার্যক্রম চলবে এবং সেখানে প্রমাণ ও সাক্ষ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রায় নির্ধারিত হবে।

এদিকে তৌহিদ আফ্রিদির এই মামলা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তার অনুসারীরা আদালতের রায়কে স্বস্তির হিসেবে দেখলেও, অন্যদিকে নিহত আসাদুল হক বাবুর পরিবার এখনো ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সময়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে বলা হয়েছিল, ওই দিন যাত্রাবাড়ী এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ ও সহিংসতা ঘটে। আন্দোলন চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যার জেরে একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেই ধারাবাহিকতায় আসাদুল হক বাবুর মৃত্যু ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ শুরু থেকেই তিনি ও তার আইনজীবীরা অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে সরাসরি জড়িত ছিলেন না এবং তাকে ভুলভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক রায়কে তারা ন্যায়বিচারের একটি ধাপ হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং সব আসামির ভূমিকা যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে বলে তারা জানিয়েছেন।

আইন বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সংবেদনশীল মামলায় উচ্চ আদালতের জামিন সিদ্ধান্ত প্রায়ই আলোচনার জন্ম দেয়, বিশেষ করে যখন মামলাটি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আলোচিত হয়। তবে চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত কাউকে নির্দোষ বা দোষী হিসেবে ঘোষণা করা আইনত সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে তৌহিদ আফ্রিদির জামিন বহাল রাখার আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্ত মামলার গতিপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এ মামলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আদালতের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণের ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত