স্কোলিওসিস গবেষণায় বিশ্বসেরা ফেলোশিপে ডা. জুনায়েদ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
স্কোলিওসিস গবেষণায় বিশ্বসেরা ফেলোশিপে ডা. জুনায়েদ

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের চিকিৎসা অঙ্গনে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় যুক্ত হলো নতুন করে। প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি চিকিৎসক অর্জন করলেন স্কোলিওসিস গবেষণা ও চিকিৎসায় বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি ‘২০২৬ রবার্ট বি. উইন্টার গ্লোবাল আউটরিচ ফেলোশিপ’। এই বিরল সম্মান অর্জন করেছেন ডা. শরীফ আহমেদ জুনায়েদ, যিনি বর্তমানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন-এর স্পাইন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্বব্যাপী মেরুদণ্ডের বক্রতা বা স্কোলিওসিস চিকিৎসা ও গবেষণায় কাজ করা বিশেষজ্ঞদের কাছে এই ফেলোশিপ একটি স্বপ্নের নাম। এটি প্রদান করে স্কোলিওসিস রিসার্চ সোসাইটি, যা স্কোলিওসিস ও জটিল মেরুদণ্ডজনিত রোগ নিয়ে কাজ করা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত। গত ২৯ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ডা. জুনায়েদের নাম ঘোষণা করা হয়, যা বাংলাদেশের চিকিৎসা অঙ্গনের জন্য এক বিরল অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্কোলিওসিস এমন একটি জটিল শারীরিক অবস্থা, যেখানে মানুষের মেরুদণ্ড অস্বাভাবিকভাবে বাঁকতে থাকে। শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি হলেও, যথাসময়ে চিকিৎসা না হলে এটি গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস, চলাফেরা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়। উন্নত বিশ্বে এ রোগের চিকিৎসায় ব্যাপক অগ্রগতি হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এখনও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার অভাব রয়েছে। এই বাস্তবতায় ডা. জুনায়েদের অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।

‘রবার্ট বি. উইন্টার গ্লোবাল আউটরিচ ফেলোশিপ’ মূলত স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের প্রতিশ্রুতিশীল স্পাইন সার্জনদের জন্য চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচিত চিকিৎসকরা বিশ্বের খ্যাতনামা চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে সরাসরি প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান। ফেলোশিপের আওতায় ডা. জুনায়েদ ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। সেখানে তিনি আধুনিক সার্জিক্যাল পদ্ধতি, রোগ নির্ণয়ের নতুন প্রযুক্তি এবং রোগী ব্যবস্থাপনার সর্বাধুনিক কৌশল সম্পর্কে হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জন করবেন।

এই ফেলোশিপের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এতে অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকদের সকল ব্যয় বহন করে সংশ্লিষ্ট সংগঠন। ভ্রমণ, আবাসন ও খাবারসহ যাবতীয় খরচ বহন করবে স্কোলিওসিস রিসার্চ সোসাইটি, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ফেলোশিপের গুরুত্ব ও মর্যাদাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

ডা. জুনায়েদের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, দক্ষতা এবং রোগীদের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা। সহকর্মীরা বলছেন, তিনি সবসময়ই জটিল রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতি শেখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত আগ্রহী। তাঁর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিটোরসহ দেশের অন্যান্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে।

নিজের এই অর্জন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ডা. জুনায়েদ বলেন, এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের সকল স্কোলিওসিস রোগী এবং তাঁদের পরিবারের জন্য একটি আশার বার্তা। তিনি এই ফেলোশিপটি তাঁর রোগী, তাঁদের পরিবার এবং সহকর্মীদের উৎসর্গ করেছেন। তাঁর মতে, উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে দেশে ফিরে তিনি আরও দক্ষতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দিতে পারবেন।

বাংলাদেশে স্কোলিওসিস চিকিৎসার ক্ষেত্রটি এখনও উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে জটিল সার্জারির জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত জনবল এবং গবেষণার সুযোগ সীমিত। এই প্রেক্ষাপটে ডা. জুনায়েদের মতো চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা বিশ্বমানের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন, যা দেশের রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকেও তুলে ধরে।

এই অর্জন দেশের তরুণ চিকিৎসকদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকেই এখন আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত হবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

সব মিলিয়ে, ডা. শরীফ আহমেদ জুনায়েদের এই সাফল্য শুধু একটি ফেলোশিপ অর্জনের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের চিকিৎসা অঙ্গনের সক্ষমতা, সম্ভাবনা এবং বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে যাওয়ার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁর এই অর্জন প্রমাণ করে, সঠিক সুযোগ ও উদ্যোগ থাকলে বাংলাদেশের চিকিৎসকরাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের জায়গা করে নিতে সক্ষম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত