প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সৌদি আরব-এ এখন পর্যন্ত মোট ৪৬ হাজার ৫১৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে হজ অফিস বাংলাদেশ। চলতি হজ মৌসুমে বিমান, সৌদি ও ফ্লাইনাসসহ বিভিন্ন এয়ারলাইনের ১১৮টি ফ্লাইটে তারা যাত্রা সম্পন্ন করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে প্রকাশিত সর্বশেষ হজ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন অনুযায়ী, সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪ হাজার ৭১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪২ হাজার ৪৪৩ জন হজযাত্রী। মোট হজযাত্রীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য অংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
হজযাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন এয়ারলাইনস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বুলেটিনে বলা হয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস-এর ৫৪টি ফ্লাইটে ২১ হাজার ৯১০ জন যাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। অন্যদিকে সৌদিয়া এয়ারলাইনস-এর ৪৩টি ফ্লাইটে ১৬ হাজার ১১০ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস-এর ২১টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৯৪ জন যাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী রয়েছেন। মোট ৬৬০টি এজেন্সি এই হজ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সহযোগী এজেন্সি হিসেবে কাজ করছে।
হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয় গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশে যাত্রা করে। সেই ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজ যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। উদ্বোধনী কার্যক্রমে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ।
হজ বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত হজে গিয়ে ৯ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে ৭ জন মক্কায় এবং ২ জন মদিনায় ইন্তেকাল করেন। মৃতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। বিষয়টি হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হজ সম্পন্ন হওয়ার পর ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে থেকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন শেষ হজ ফ্লাইটটি বাংলাদেশে ফিরে আসবে।
হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার হজযাত্রী পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ফলে হজযাত্রীদের যাত্রা তুলনামূলকভাবে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করার চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে এত বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের হজ পালনের অংশগ্রহণ দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক পরিমণ্ডলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। তবে একই সঙ্গে হজ ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা, চিকিৎসা সেবা এবং ভ্রমণ ব্যবস্থাপনার মান আরও উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে।
হজযাত্রীদের পরিবারের সদস্যরাও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রিয়জনদের সুস্থতা কামনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই হজযাত্রীদের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে চলতি বছরের হজ কার্যক্রম এখন পর্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ফিরতি যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।