দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ১৭ বার
স্বর্ণের দাম কমল বাংলাদেশ বাজার

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দামে পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও নতুন করে দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বর্ণের দাম কিছুটা কমানো হয়েছে, যা মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টা থেকেই সারাদেশে কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈশ্বিক বাজারে মূল্য ওঠানামার প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারেও পড়ে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ঘোষণায় ভরিতে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে, যা ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

স্বর্ণের এই নতুন দর কার্যকর হওয়ার পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জুয়েলারি মার্কেটে এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের পরিবর্তন ঘন ঘন হওয়ায় স্থানীয় বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই প্রায়ই নতুন দরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাজুস সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। ওই সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দামে পরিবর্তন আসায় বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলারের ওঠানামা এবং বৈশ্বিক মুদ্রানীতির পরিবর্তনের কারণে স্বর্ণের দামে ঘন ঘন ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশেও পড়ছে, যেহেতু দেশটি সম্পূর্ণভাবে আমদানি নির্ভর।

ঢাকার একাধিক জুয়েলারি ব্যবসায়ী জানান, দামের এই অস্থিরতা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা তৈরি করছে। অনেকেই বিয়ের মৌসুম বা বিশেষ প্রয়োজনে স্বর্ণ কিনতে চাইলেও দাম কমবে নাকি বাড়বে—এই অপেক্ষায় সময় নিচ্ছেন। ফলে বিক্রিতে এক ধরনের ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে ক্রেতাদের একটি অংশ স্বর্ণের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যারা বিয়ের জন্য গহনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই দাম কমা কিছুটা সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছে বাজুস। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকায়। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের তুলনায় রুপার দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও সামগ্রিকভাবে মূল্যবান ধাতুর বাজার এখন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ডলার বাজার, সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রবণতা এই দামের ওঠানামায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এদিকে বাজুসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৬১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৮ বার কমানো হয়েছে। এই ঘন ঘন পরিবর্তন বাজারকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল। একই সময়ে রুপার বাজারেও একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে, যা সামগ্রিকভাবে মূল্যবান ধাতুর বাজারে অস্থিরতার চিত্রই তুলে ধরে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে স্বর্ণ কেবল অলংকার হিসেবেই নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য পরিবর্তনও দেশের ভোক্তাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তারা মনে করছেন, ভবিষ্যতে স্বর্ণের বাজার আরও বেশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা উভয়ই সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। কেউ দাম কমার সুযোগ নিচ্ছেন, আবার কেউ ভবিষ্যতের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে স্বর্ণবাজারে এক ধরনের অপেক্ষার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, নতুন দরে স্বর্ণের মূল্য কমলেও বাজারে স্থিতিশীলতা এখনও পুরোপুরি ফিরে আসেনি। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় চাহিদার ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনের বাজার পরিস্থিতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত