পটিয়ায় ৬০ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
পটিয়ায় ৬০ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়। এবারের মৌসুমে প্রায় ৬০ হাজার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে স্থানীয়ভাবে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার ১২০টি। ফলে চাহিদা পূরণের পরও প্রায় আড়াই হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে রয়েছে ৩৫ হাজার ৩৮৫টি গরু, তিন হাজার ৮৫০টি মহিষ, ১৬ হাজার ১১০টি ছাগল এবং চার হাজার ৩৯০টি ভেড়া। স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকরাও এসব পশু লালন-পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা খামারভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে এবার বাইরের জেলা বা অঞ্চল থেকে পশু আমদানির প্রয়োজন পড়বে না বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানিয়েছেন, এবারের ঈদকে সামনে রেখে আগেভাগেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। খামারিদের প্রশিক্ষণ, টিকাদান কর্মসূচি, রোগ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ পশু মোটাতাজাকরণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, পশুর স্বাস্থ্য ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি চলছে এবং ঈদের আগে ও বাজার চলাকালে বিশেষ মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকবে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ আরও জানিয়েছে, পশু মোটাতাজাকরণে অবৈধ হরমোন বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি থাকবে। কোনো ধরনের অননুমোদিত প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এতে করে ভোক্তারা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু কোরবানির সুযোগ পাবেন বলে আশা করছে প্রশাসন।

তবে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও খামারিদের মধ্যে উদ্বেগের ছায়া দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় অনেক খামারি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে রাতের বেলায় সংঘবদ্ধ চক্রের হামলা ও চুরির ঘটনায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

কুসুমপুরা ইউনিয়নের মনসা এলাকার খামারি নূরুল আলম বলেন, গভীর রাতে মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত তার খামারে ঢুকে অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে নগদ অর্থ ও চারটি গরু লুট করে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, “আমাকে বেঁধে ফেলে আলমারি ভেঙে টাকা নিয়ে যায়। পরে গরুগুলোও নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি।”

একই এলাকার আরেক খামারি মোহাম্মদ সেলিম জানান, ঈদের আগে সাধারণত গরুর দাম ভালো থাকলেও চুরির আতঙ্কে অনেকেই আগেভাগে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে তারা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা অনেক কষ্ট করে গরু বড় করি, কিন্তু রাতে ঘুম আসে না। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চুরির খবর শুনছি।”

স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় চোরচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক এলাকায় রাতের টহল কম থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে বলে দাবি তাদের। তারা প্রশাসনের কাছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে ঈদের আগের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম খামারিদের উদ্বেগের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ডেইরি ও পশুপালন খাত দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খামারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। তিনি সিসিটিভি স্থাপন, স্থানীয় পর্যায়ে পাহারা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক জানান, গরু চুরি রোধে পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি খামারিদেরও নিজ উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শ দেন।

অন্যদিকে পটিয়া ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কপিল বলেন, গরু ও মহিষ চুরি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যা খামারিদের জন্য বড় সংকট তৈরি করছে। তিনি বলেন, অনেক সময় ডাকাত দল সরাসরি হামলা চালিয়ে পশু লুট করে নেয়, কিন্তু এসব ঘটনাকে ছোট করে দেখা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, খামারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং দ্রুত বিচার ব্যবস্থা কার্যকর করা জরুরি। না হলে এই খাতের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

সব মিলিয়ে পটিয়ায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ এবারের ঈদে স্বস্তির বার্তা দিলেও নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা খামারিদের মাঝে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রশাসন ও স্থানীয় উদ্যোগ একসঙ্গে কার্যকর হলে এই সম্ভাবনাময় খাত আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত