ধানবোঝাই নৌকাডুবিতে শ্রমিকের মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
ধানবোঝাই নৌকাডুবিতে শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৫ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরে ধানবোঝাই নৌকা ডুবে রঞ্জন বাউরী (৪০) নামে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার উত্তর পাশের গোলাইয়া বিল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাওর অঞ্চলে ধান সংগ্রহ ও পরিবহনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয় কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে।

নিহত রঞ্জন বাউরী কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর চা-বাগানের ৪৪ নম্বর পাট্টার বাসুদেব বাউরীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মৌসুমী শ্রমিক হিসেবে হাওর অঞ্চলে ধান কাটা ও পরিবহনের কাজে যুক্ত ছিলেন। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনই ঝুঁকিপূর্ণ জলপথে কাজ করতে হতো তাকে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রঞ্জন বাউরী এবং স্থানীয় কৃষক আনকার মিয়া গোলাইয়া বিল এলাকায় ধান কেটে নৌকায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। নৌকাটি ধানবোঝাই অবস্থায় পানিপথে চলছিল। রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মুনিয়ারপার এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার সময় আনকার মিয়া সাঁতার কেটে কোনোভাবে প্রাণে রক্ষা পেলেও রঞ্জন বাউরী পানিতে তলিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করে রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা জানান, রঞ্জন বাউরী গত দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে কাউয়াদীঘি হাওর এলাকায় কৃষকের ধান কাটার কাজ করছিলেন। কঠোর পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের এই শ্রমিকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রউফ বলেন, রঞ্জন একজন পরিশ্রমী শ্রমিক ছিলেন। জীবিকার জন্য তিনি হাওরের বিভিন্ন কৃষকের ধান কেটে দিতেন। প্রতিদিনই তিনি পানিপথে যাতায়াত করতেন, কিন্তু এমন দুর্ঘটনা যে ঘটবে তা কেউ কল্পনাও করেনি।

হাওর অঞ্চলে ধান কাটা ও পরিবহনের কাজে নৌকা ব্যবহারের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে বলে জানান স্থানীয়রা। বিশেষ করে ধানবোঝাই নৌকা অতিরিক্ত ভারী হয়ে গেলে সামান্য ভারসাম্যহীনতাতেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভুঁইয়া বলেন, “নিহতের মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে, তারা ইতোমধ্যে থানায় এসেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

হাওরাঞ্চলে প্রতিবছরই ধান কাটার মৌসুমে এমন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের অভাবে শ্রমিকরা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হন। অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত নৌ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এদিকে স্থানীয় কৃষক ও শ্রমিকরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, হাওর এলাকায় ধান পরিবহনের সময় নিরাপদ নৌযান নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

রঞ্জন বাউরীর মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। তার স্ত্রী ও সন্তানরা এখন দিশেহারা অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। জীবিকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে এই শ্রমিকের মৃত্যু আবারও হাওর অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের জীবনের অনিশ্চয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত