প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশীয় টেলিভিশন নাটকে পারিবারিক গল্পনির্ভর ধারাবাহিকের প্রতি দর্শকের আগ্রহ নতুন করে ফিরে আসছে, আর সেই ধারার অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছে মেগা ধারাবাহিক ‘পরম্পরা’। তিন প্রজন্মের জীবন, সম্পর্কের টানাপোড়েন, স্বপ্ন আর বাস্তবতার সংঘাতে গড়ে ওঠা এই নাটকটি ইতোমধ্যে শততম পর্ব অতিক্রম করে দর্শকের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
হাঁটি হাঁটি পা পা করে জনপ্রিয়তার পথ পেরিয়ে ‘পরম্পরা’ এখন সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছেছে। নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একটি পরিবারের তিন প্রজন্মকে ঘিরে, যেখানে ব্যক্তিগত স্বপ্ন, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক পরিবর্তনের বাস্তবতা একসঙ্গে মিশে গেছে। সময়ের পরিবর্তনে সমাজ বদলালেও সম্পর্কের বন্ধন যে কতটা গভীর ও চিরস্থায়ী হতে পারে, সেই বার্তাই ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই নাটকে।
সোমবার (৪ মে) সাভারের আশুলিয়ায় নাটকের শুটিং সেটে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা হয় ধারাবাহিকটির শততম পর্ব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী, কলাকুশলী ও নির্মাতা দল। পারিবারিক আবহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সবাই নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কাজের আনন্দ ভাগ করে নেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।
নাটকটির নির্মাতা আশিস রায় জানান, শুরু থেকেই ‘পরম্পরা’র লক্ষ্য ছিল একটি বাস্তবসম্মত পারিবারিক গল্প তুলে ধরা, যেখানে দর্শক নিজেদের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাবেন। তার মতে, গল্পের গভীরতা এবং চরিত্রগুলোর বৈচিত্র্যই এই ধারাবাহিককে আলাদা করেছে অন্য সব নাটকের থেকে।
ধারাবাহিকটি শুরু হওয়ার পর থেকেই দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। বিশেষ করে পারিবারিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম আবেগ, দ্বন্দ্ব ও ভালোবাসার উপস্থাপন নাটকটিকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। বিভিন্ন বয়সী দর্শক এই নাটকের সঙ্গে নিজেদের জীবনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিনিয়ত মত প্রকাশ করছেন।
শিল্পীদের আন্তরিক অভিনয় এবং চরিত্রের সঙ্গে তাদের বাস্তবসম্মত উপস্থাপনও নাটকটির সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পারিবারিক কেন্দ্রবিন্দুর চরিত্রে অভিনয় করা গুণী অভিনেত্রী ডলি জহুর তার স্নেহ ও শাসনের মিশেলে চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলেছেন বলে দর্শকরা মনে করেন।
নাটকের গল্পে দেখা যায়, তিন প্রজন্মের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, আবার কোথাও এসে মিলেও যায়। এই টানাপোড়েনই নাটকটিকে বাস্তব জীবনের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। সম্পর্কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি, আত্মত্যাগ, ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধের জটিল সমীকরণই ‘পরম্পরা’র মূল আকর্ষণ।
বর্তমানে দেশীয় টেলিভিশনে পারিবারিক গল্পনির্ভর নাটকের জনপ্রিয়তা আবারও বাড়ছে। সেই ধারার মধ্যে ‘পরম্পরা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে। নির্মাতারা মনে করছেন, দর্শক এখন আবারও এমন গল্প দেখতে আগ্রহী, যেখানে নিজেদের পরিবার, সম্পর্ক ও সমাজের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাওয়া যায়।
শততম পর্ব উদযাপন উপলক্ষে সেটে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শিল্পী ও কলাকুশলীরা একে অপরের সঙ্গে কেক কেটে আনন্দ ভাগ করে নেন। দীর্ঘ যাত্রায় নাটকের সঙ্গে যুক্ত সবাই এই সাফল্যকে একটি টিম ওয়ার্কের ফল হিসেবে দেখছেন।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীরাও জানান, দীর্ঘ সময় ধরে একই ধারাবাহিকে কাজ করা তাদের জন্য একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা। চরিত্রের গভীরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগও বিস্তৃত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
দর্শকদের মধ্যে নাটকটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘পরম্পরা’ তাদের পারিবারিক সময়ের একটি অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতিটি পর্বেই নতুন আবেগ ও গল্পের মোড় তাদের আকৃষ্ট করছে।
নির্মাতা আশিস রায় বলেন, ভবিষ্যতে গল্পে আরও নতুন মোড় ও আবেগঘন অধ্যায় যুক্ত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দর্শকের ভালোবাসা নিয়েই ধারাবাহিকটি আরও দীর্ঘ পথ অতিক্রম করবে।
সব মিলিয়ে, ‘পরম্পরা’ শুধু একটি নাটক নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে পারিবারিক জীবনের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তিন প্রজন্মের এই গল্প দর্শকের মনে যে জায়গা করে নিয়েছে, তা ধারাবাহিকটির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।