দেশে কোথাও লোডশেডিং নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ৩ বার
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের কোথাও বর্তমানে লোডশেডিং নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, কিছু জায়গায় সাময়িক কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিতে পারে, তবে এটি পরিকল্পিত লোডশেডিং নয়।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় দিনে বিভিন্ন জেলার প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে অতীতে জ্বালানি খাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিশেষ করে ডিজেল চুরি ও কিছু অসাধু চক্রের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, “যারা এই কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে দেশের কোথাও পরিকল্পিত লোডশেডিং নেই। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং উৎপাদন পরিস্থিতি স্থিতিশীল। তবে কোথাও কোথাও যদি বিদ্যুৎ চলে যায়, তা মূলত কারিগরি ত্রুটি বা স্থানীয় সমস্যার কারণে হয়ে থাকে।

সরকারের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এখন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত টানা এক সপ্তাহ দেশে কোনো লোডশেডিং হয়নি। এ সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ও সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। কিছু ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমস্যার কারণে আগে ঘাটতি তৈরি হলেও এখন সেসব সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতেও শূন্য লোডশেডিং ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর। গ্যাস ও তেলের সীমাবদ্ধতা থাকায় এগুলো পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। বর্তমানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রয়োজনীয় উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া পটুয়াখালীর আরএনপিএল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে এসেছে এবং শিগগিরই আরেকটি ইউনিট যুক্ত হবে বলে জানান তিনি।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা ও সরবরাহ প্রায় সমান ছিল। ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট, যা সম্পূর্ণভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হয়। একইভাবে পরবর্তী দিনগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় কোনো লোডশেডিং হয়নি।

২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিনই বিদ্যুৎ চাহিদা ১১ থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে ছিল এবং সরবরাহও সেই অনুযায়ী বজায় রাখা হয়। মে মাসের শুরুতেও একই ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিজিসিবি।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনার উন্নতির কারণে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হয়েছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে জ্বালানি সরবরাহ ও অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

গ্রাম ও শহর পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কিছু এলাকায় ক্ষণস্থায়ী বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয় গ্রিড বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে সরকার বলছে, দেশে বর্তমানে কোনো পরিকল্পিত লোডশেডিং নেই এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে টেকসই ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নজরদারি ও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত