প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রোগীদের হয়রানি ও প্রতারণা রোধে বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তিন দালালকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়েছে প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে সক্রিয় একটি দালালচক্র রোগীদের বিভ্রান্ত করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ্বর মণ্ডলের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। আকস্মিক এ অভিযানে হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় দালালচক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় অবস্থান নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখাত। তারা সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে নির্দিষ্ট বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। অনেক সময় ভুল তথ্য দিয়ে রোগীদের বিভ্রান্ত করে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
অভিযান চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ্বর মণ্ডল হাসপাতাল চত্বরে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরে প্রমাণের ভিত্তিতে তিনজনকে আটক করেন। পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
আদালতের রায়ে একজনকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপর দুইজনকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ্বর মণ্ডল বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের সেবা পাওয়া একটি মৌলিক অধিকার। সেখানে দালালচক্রের কোনো অবস্থান নেই। যারা রোগীদের প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে যাতে হাসপাতাল এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চিকিৎসা সেবা নিতে পারে, সে জন্য প্রশাসন সর্বদা সতর্ক রয়েছে। তিনি জানান, শুধু দালালই নয়, অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, হাসপাতাল এলাকায় দালালদের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। অনেকেই না বুঝে প্রতারকদের মাধ্যমে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতেন। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সেই ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমবে বলে তারা আশা করছেন।
উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে রোগীর চাপ ও সীমিত জনবল নিয়ে কাজ করছে। এই সুযোগে একটি অসাধু চক্র রোগীদের টার্গেট করে দালালির মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা নিচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিযান সেই চক্রের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালচক্র নির্মূল করতে হলে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর শাস্তির পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। রোগী ও তাদের স্বজনদেরও সচেতন হতে হবে যেন তারা কোনো ধরনের প্রলোভনে না পড়ে।
সব মিলিয়ে উজিরপুরের এই অভিযানকে স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে সরকারি হাসপাতালে দালালচক্রের প্রভাব অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।