প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাগেরহাট সদর উপজেলায় বৈদ্যুতিক কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সিরাজুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে উপজেলার চাপাতলা গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত সিরাজুল ইসলাম চাপাতলা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম তরুণদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক ও হতাশা।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সিরাজুল ইসলাম নিজ ঘরের বৈদ্যুতিক বোর্ডে কিছু মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি খোলা তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনা দেখে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার অবস্থার অবনতি ঘটে। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সিরাজুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন বাবা মিজানুর রহমান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, সকালে ঘরের কাজ করতে গিয়েছিল, কিছুক্ষণের মধ্যেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে যাবে তা কেউ ভাবতে পারেনি। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। তার এই মৃত্যু পুরো পরিবারকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সিরাজুল ইসলামকে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শকের মাত্রা বেশি হওয়ায় ঘটনাস্থলেই তার অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, এলাকায় প্রায়ই ঘরোয়া বৈদ্যুতিক কাজ নিরাপত্তা ছাড়াই করা হয়, যা অনেক সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা রোধে বৈদ্যুতিক কাজের সময় সতর্কতা ও পেশাদার কারিগরের সহায়তা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বাগেরহাটে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইনের অপ্রতুল নিরাপত্তা এবং সচেতনতার অভাব এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরোয়া বৈদ্যুতিক মেরামতের সময় সামান্য অসাবধানতাও প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যেকোনো কাজ করার আগে অবশ্যই মেইন সুইচ বন্ধ রাখা এবং দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ানের সহায়তা নেওয়া উচিত।
সিরাজুল ইসলামের অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রতিবেশী ও স্বজনরা তার পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে ভিড় করছেন। তরুণ বয়সে এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই।