প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার উদ্দেশ্যে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. তারিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৫ মে) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর তার পদত্যাগপত্র পাঠান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পদত্যাগপত্রে মো. তারিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে সহ-সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ কারণেই সরকারি দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তার পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, ব্যক্তিগত ও পেশাগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে তিনি নির্বাচনকে সামনে রেখে সক্রিয়ভাবে আইনজীবী সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত হতে চান। এ লক্ষ্যে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি।
আইন অঙ্গনে এই পদত্যাগকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনরত আইনজীবীরা সাধারণত সংগঠন বা সমিতির নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।
তারিকুল ইসলামের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আইনজীবী মহলে আলোচনাও শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন আইনজীবীদের পেশাগত নেতৃত্ব ও সংগঠনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবসময়ই গুরুত্ব পেয়ে থাকে।
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিনি তার দায়িত্বকালীন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তা ও দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। ভবিষ্যতে আইন পেশার মাধ্যমে জনসেবায় আরও সক্রিয় থাকার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পদত্যাগপত্রটি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আসন্ন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে আইনজীবী মহলে ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্যানেল গঠন, প্রার্থী ঘোষণা এবং প্রচারণার প্রস্তুতিও চলছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নির্বাচন শুধু সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণ করে না, বরং দেশের উচ্চ আদালতের আইনজীবী সমাজের নীতি ও অবস্থান নির্ধারণেও প্রভাব ফেলে।
তারিকুল ইসলামের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে নির্বাচন-পূর্ব রাজনৈতিক ও পেশাগত কর্মকাণ্ড আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।