জাতীয় দল ছাড়ছেন সালাউদ্দিন, পাচ্ছেন নতুন দায়িত্ব এইচপিতে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ১৫ বার
জাতীয় দল ছাড়ছেন সালাউদ্দিন, পাচ্ছেন নতুন দায়িত্ব এইচপিতে

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের জাতীয় দলের সঙ্গে অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজই আপাতত জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে তার শেষ দায়িত্ব হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না; বরং নতুন ভূমিকায় তাকে দেখা যাবে দেশের ক্রিকেট উন্নয়ন কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায়।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সালাউদ্দিনকে হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার সঙ্গে থাকা চুক্তি অপরিবর্তিত থাকবে। শুধু দায়িত্বের ক্ষেত্র বদল হবে, সম্পর্ক নয়।

আগামী ৮ মে থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তান সিরিজের দুইটি টেস্ট ম্যাচই জাতীয় দলের সঙ্গে তার শেষ অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এরপর তিনি সরাসরি এইচপি প্রোগ্রামে কাজ শুরু করবেন। বিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে তরুণ ক্রিকেটারদের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের পাইপলাইন শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এইচপির বর্তমান হেড কোচ ডেভিড হেম্পকে অন্য একটি দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বোর্ডের। ফলে সালাউদ্দিনের জন্য নতুন দায়িত্বে কাজ শুরু করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে আরও সুসংগঠিতভাবে।

আগামী জুনে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে সালাউদ্দিনের এইচপি অধ্যায় শুরু হবে। সেই সিরিজে বাংলাদেশ এইচপি দল একাধিক ম্যাচ খেলবে, যেখানে কোচিং স্টাফে থাকবেন আরও অভিজ্ঞ কয়েকজন ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব। সোহেল ইসলাম, মিজানুর রহমান বাবুল, রাজিন সালেহ এবং তালহা জুবায়েরও কোচিং প্যানেলে থাকবেন বলে জানা গেছে।

জাতীয় দল থেকে এইচপিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করাই এখন তার মূল লক্ষ্য। তার মতে, ভবিষ্যতের জাতীয় দল গড়ার জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে হলে শুরু থেকেই ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করা জরুরি।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি মনে করেন এইচপি ইউনিটে তার ভূমিকা আরও কার্যকর হবে। জাতীয় দলের চাহিদা ও বাস্তবতা আরও গভীরভাবে বুঝতে পারার কারণে এখন তিনি সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নতুন প্রজন্ম তৈরি করতে চান।

সালাউদ্দিন আরও মনে করেন, জাতীয় দলের জন্য একজন কার্যকর অলরাউন্ডার তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে এমন ক্রিকেটার প্রয়োজন, যিনি ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই অবদান রাখতে পারবেন এবং নিচের দিকে নেমে দলকে স্থিতি দিতে পারবেন। এই ধরনের ক্রিকেটার তৈরির দিকেই তিনি এইচপিতে বেশি গুরুত্ব দেবেন।

এইচপি ইউনিটে এবার কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা থাকছে না। মোট ৩৫ জন ক্রিকেটার নিয়ে গঠিত এই স্কোয়াডে লাল ও সাদা বলের ক্রিকেটাররা থাকবেন। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত এইচপি দলের ব্যস্ত সূচি রয়েছে। বগুড়া ও রাজশাহীতে ওয়ানডে সিরিজ খেলার পর সিলেটে হবে চারদিনের ম্যাচ।

এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফর এবং অস্ট্রেলিয়া সফরের মতো বড় আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি কর্মসূচিও রয়েছে এইচপি দলের জন্য। এসব সফরে তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বিসিবির।

বিশ্লেষকদের মতে, সালাউদ্দিনের এইচপিতে দায়িত্ব নেওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেট কাঠামোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি যদি সঠিকভাবে তরুণদের গড়ে তুলতে পারেন, তবে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের শক্ত ভিত্তি তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে সালাউদ্দিনের অধ্যায় শেষ হলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে তার নতুন ভূমিকায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত