সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ৪২ বার
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশে সবার জন্য মানসম্মত ও সমান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত প্রতিটি নাগরিক যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়, সেটি নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে জনসংখ্যার চাপ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং সেবার বৈষম্য এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠা এবং ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, চিকিৎসক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতকে শুধু সেবা প্রদানকারী খাত হিসেবে দেখলে হবে না, এটি একটি সামাজিক নিরাপত্তার মৌলিক ভিত্তি। প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, সরকার চেষ্টা করছে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড ও সহজলভ্য করতে, যাতে রোগীরা দ্রুত সেবা পেতে পারে এবং হাসপাতালগুলোতে ভিড় কমে।

তিনি স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সততার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, চিকিৎসাসেবা মানুষের জীবন ও মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলার সুযোগ নেই। সেবা প্রদানের প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালকে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে রূপান্তরের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা আরও সহজে পাবে। বিশেষ করে জরুরি ও জটিল রোগীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে সভায় উপস্থিত একজন বিশেষ অতিথি হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, রাজধানীর করাইল, সাততলা ও ভাষানটেক এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। ভবিষ্যতে এসব এলাকার কেউ যেন চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তিনি জানান, এসব এলাকার বাসিন্দারা এখন থেকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫০ শয্যার আইসিইউ বেড চালুর উদ্যোগও এর অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা গুরুতর রোগীদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, দক্ষ জনবল ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও জরুরি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে বিশেষায়িত চিকিৎসা, আইসিইউ সুবিধা এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সভায় আরও বলা হয়, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা চালুর মাধ্যমে রোগীদের হাসপাতালমুখী চাপ কমানো সম্ভব হচ্ছে। অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট, টেলিমেডিসিন এবং ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনা ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যখাতে পরিবর্তন আনছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং এর ধারাবাহিক বাস্তবায়ন। তারা বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদাও বাড়ছে, তাই সেবার পরিধি বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।

সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং সেবা সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী ও সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত