মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৪ মে) রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি অংশে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর নাম মো. আব্দুল মালেক (৪৬)। তিনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিলেন এবং সম্প্রতি দেশে ফিরে আসেন। পরিবারের জন্য উপহার ও সঞ্চিত সম্পদ হিসেবে সঙ্গে করে আনা স্বর্ণালংকার নিয়েই তিনি এ হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, এয়ারপোর্ট থেকে ঢাকায় অবতরণের পর তিনি ব্যক্তিগত গাড়িতে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি ফ্লাইওভার এলাকায় পৌঁছালে একটি সংঘবদ্ধ দল তার গাড়ির গতিরোধ করে। ওই দলটি নিজেদের ডিবি পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়।
এরপর তারা অস্ত্রের মুখে গাড়ি থেকে তাকে নামিয়ে ফেলে এবং তল্লাশির নামে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রবাসী আব্দুল মালেক জানান, ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে প্রায় আট ভরি স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে কষ্ট করে উপার্জন করা অর্থ ও পরিবারের জন্য আনা স্বর্ণ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ছিনিয়ে নেয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পথচারী ও স্থানীয়রা জানান, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করে একটি গাড়ি আটকে কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে দ্রুত ঘটনাটি ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সালেকুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়েছে এবং তিনি থানার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তার অভিযোগ গ্রহণের পর বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হবে।
অন্যদিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক) মিজানুর রহমান বলেন, প্রবাসী এখনো থানায় পৌঁছাননি। তিনি পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকভাবে তার বক্তব্য রেকর্ড করা হবে এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং ডিবি পরিচয়ে সংঘটিত এই ছিনতাইয়ের পেছনে কারা জড়িত, তা শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে প্রবাসীরা দেশে ফিরে অর্থ ও স্বর্ণ নিয়ে চলাচলের সময় টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রের এ ধরনের অপরাধ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এসব ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এ ঘটনায় এখনো কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ বলছে, অপরাধীদের শনাক্তে অভিযান চলমান রয়েছে।