কলেজ ভর্তিতে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন ৬ হাজার টাকা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ৬ বার
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত না হয়—এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে একাদশ শ্রেণি ও আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ সহায়তার আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থী এককালীন ৬ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান পাচ্ছেন।

শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই সহায়তা মূলত সেইসব শিক্ষার্থীদের জন্য, যারা অর্থের অভাবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবেদন করার সময়সীমা বাড়িয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে আবেদনের শেষ সময় ছিল ৩০ এপ্রিল, কিন্তু শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সময়সীমা এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে।

সরকারি এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের অধীন সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, মাদ্রাসা এবং সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকা সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সহায়তা কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো ঝরে পড়া রোধ করা এবং দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী শুধুমাত্র আর্থিক সমস্যার কারণে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হতে পারে না, তাদের জন্য এই আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে আলাদা আলাদা হারে এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ৪ হাজার টাকা, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ৬ হাজার টাকা এবং স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তি সহায়তা পাচ্ছেন। এই আর্থিক অনুদান সরাসরি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সহায়তা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা এতে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন। অনেক সময় ভর্তি ফি, বইপত্র ও অন্যান্য খরচের কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বন্ধ করতে বাধ্য হন। এই অনুদান সেই চাপ কিছুটা হলেও কমিয়ে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, অভিভাবকরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার ব্যয় বহন করা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের এই সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে কিছু শিক্ষার্থী এখনো সঠিক তথ্য না জানার কারণে বিভ্রান্তিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হচ্ছে।

শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এবং সহজভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই আবেদন করতে পারেন। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সহায়তার অর্থ প্রদান করা হবে।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আওতায় আনার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে পারলে অসচ্ছল পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীই উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত