দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৫.৬১ বিলিয়ন ডলার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬
  • ৬৫ বার
দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৫.৬১ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।

শুক্রবার (৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব ও আইএমএফের মানদণ্ড অনুযায়ী রিজার্ভের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও উভয় সূচকেই সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৭ মে) পর্যন্ত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভ ছিল ৩০ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে মোট রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। এর আগের দিন ও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রিজার্ভে ধারাবাহিক ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিকভাবে এটি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক মাসে রিজার্ভ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের ধারা বজায় রেখেছে। চলতি বছরের শুরুতে রিজার্ভ তুলনামূলক কম থাকলেও ধীরে ধীরে তা বাড়তে শুরু করে। ৯ এপ্রিল বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল প্রায় ২৯.৯৫ বিলিয়ন ডলার, যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, প্রবাসী আয় প্রবাহের উন্নতি এবং আমদানি ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তার অর্থ ছাড়ও রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রিজার্ভের এই অবস্থান দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি স্বস্তির বার্তা। বিশেষ করে বৈদেশিক বাণিজ্য, জ্বালানি আমদানি এবং মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চাপ তৈরি হতে পারে।

আইএমএফের মানদণ্ড অনুযায়ী বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়ায় এটি অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র তুলনামূলকভাবে সঠিকভাবে উপস্থাপন করে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব কিছু অতিরিক্ত সম্পদ অন্তর্ভুক্ত করায় মোট রিজার্ভের পরিমাণ বেশি দেখা যায়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রিজার্ভের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ানো এবং আমদানি ব্যয় আরও দক্ষভাবে ব্যবস্থাপনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী মাসগুলোতে রিজার্ভ আরও স্থিতিশীল থাকবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, রিজার্ভের এই উন্নতি বাজারে আস্থা বাড়াবে এবং আমদানি ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে গতি আনবে। তবে তারা বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্য বাজারের অস্থিরতার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

সামগ্রিকভাবে, দেশের রিজার্ভ ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কিছু পার্থক্য রয়েছে, তবুও সাম্প্রতিক প্রবণতা অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত